Skip to main content

দাঁড়ালে পাথর হয়ে যাই


ময়ুখ চৌধুরীর কবিতা

|| কাজী জহিরুল ইসলাম || 


যে কবির নাম ময়ুখ চৌধুরী তার কাছে পাঠকের প্রত্যাশা খুব স্বাভাবিকভাবেই শৈল্পিক কবিতা, সেই প্রত্যাশা তিনি মিটিয়েছেন বলেই আমার পাঠানুসন্ধান বলছে। তার কবিতা নিয়ে কাব্যানুরাগী পাঠক, তরুণ কবিদের সাথে বহুবার কথা হয়েছে। যাকেই জিজ্ঞেস করেছি, ময়ুখ চৌধুরীর কবিতা কেমন লাগে? একটি উচ্চ ধারণা সকলেই দেবার চেষ্টা করেছেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ধারণার সপক্ষে তেমন জোরালো যুক্তি দাঁড় করাতে পারেননি তারা। এর কারণ কি? কারণ হচ্ছে তাকে তেমনভাবে পাঠ করা হয়নি। এর দায় কি কবির না পাঠকের? এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ময়ুখ চৌধুরী একজন আধুনিক কবি, খুব যে স্বল্পপ্রজ তাও নয়, যথেষ্ঠই লিখেছেন, তাহলে তাকে তার সতীর্থদের মতো পাঠ করা হল না কেন? আমি প্রায়শই বলি আধুনিক কবিতা বিরাণ প্রান্তরের এক নিশ্ছিদ্র দূর্গ। একজন সফল কবি সেই দূর্গে কিছু ছিদ্র রেখে দেন যাতে পাঠকের চোখে এর অভ্যন্তরের দ্যুতি এসে পড়ে, যাতে পাঠক আগ্রহী হোন ভেতরটা দেখার জন্য, ভেতরে যাবার জন্য। গদ্যে গতি আনার জন্য যেমন বাক্যগুলোর মধ্যে পারম্পর্য তৈরী করতে হয় ঠিক তার উল্টো কাজ করতে হয় আধুনিক কবিতায়, গীতলতা পরিহার করার জন্য পঙক্তিগুলোর পারম্পর্য ভেঙে দিতে হয়। কিন্তু একটি বৃহত্তর ক্যানভাসে গিয়ে ঠিকই একটি পারম্পর্য তৈরী হয়ে যায়। এই যে বৃহত্তর ক্যানভাসে পারম্পর্য তৈরী হয়ে যায়, এই হয়ে যাওয়ার কাজটিই কবির মুন্সিয়ানা। কবি যা বলতে চান কবিতায় তা না বলে পাঠককে বোঝানোই একজন আধুনিক কবির কাজ, অর্থাৎ কবিতায় ইঙ্গিতময়তা তৈরী করা। এই কাজটি আমার বিচারে কবি ময়ুখ চৌধুরী বেশ সফলভাবেই করেছেন। তারপরেও কেন তাকে ব্যপকভাবে পাঠ করা হয় নি? আমি বলবো এর দায় পাঠকের। আমাদের পাঠক ভালো কবিতার অনুসন্ধান করেন না। আধুনিক কবিতার একটি বড় কাজ চিত্রকল্প তৈরী করা। এই কাজটিও ময়ুখ চৌধুরী বেশ সফল ভাবেই করেছেন। তিনি যখন বলেন, 

 

দাঁড়ালে পাথর হয়ে যাই/ আমি তাই হাঁটি/ অবিরাম পথের নেশায়/ পায়ের তলায় আঁকি মানচিত্র রক্তের রেখায়/ পদে পদে খানাখন্দ কাঁটাঝোপ ক্রোধান্বিত রোদ/ তবু/ পথের নেশায় পখ খুলে যায়/ খুলে যায় জানালায় ডানা/ সব দরজার সামনে মানুষের দেখা পেয়ে যাই/ আমি তাই হাঁটি/ দাঁড়ালে পাথর হয়ে যাই।

[কবিতাঃ দাঁড়ালে পাথর হয়ে যাই] 

 

আমাদের চোখের সামনে একটি দৃশ্য ভেসে ওঠে। যখন বলেন ‘খুলে যায় জানালায় ডানা’ আমরা দেখি এক ভ্রমণপিপাসু মানুষকে, উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন যার দুচোখে। তার এই পথচলাকে থামাতে চায় কত কিছু, খানাখন্দ, কাঁটাঝোপ, ক্রোধান্বিত রোদ। কিন্তু সুদৃঢ় প্রত্যয়ের মতো ‘পথের নেশায় পথ খুলে যায়’, কোনো বাঁধাই তাকে আটকাতে পারে না। একজন মানুষ যদি দৃঢ়প্রত্যয়ী হয়, তাকে বন্দি করা যায় না। তেমনি কোনো জাতির দৃঢ়সংকল্প সেই জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেই। কবিও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, তাই তিনি হাঁটেন, কেননা ‘দাঁড়ালে পাথর হয়ে’ যাবেন।




কবির চিন্তা কত কত জায়গায় যায়। একবার কবি শহীদ কাদরী আমাকে বলেছিলেন, ‘অপ্রচলিত বিষয় নিয়ে লেখ।’ কেন তিনি এটা বললেন? বললেন এজন্য যে স্বাতন্ত্র তৈরী করতে হবে, নিজের কবিতা লিখতে হবে। প্রচলিত বিষয় নিয়ে তো অনেকেই লিখেছেন, অপ্রচলিত বিষয় নিয়ে লিখলেই অন্যদের সাথে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এই প্রয়াস আমি ময়ুখ চৌধুরীর কবিতায় দেখি। ‘পুতুলের বিয়ে’ কবিতায় তিনি লিখেন, 

 

পুতুলের সঙ্গে পুতুলের বিয়ে।/ মালাপাতির সরঞ্জাম দিয়ে জবরদস্ত ভোজের আয়োজন।/ কলাগাছের মাংস/ ইটের মরিচঘুণের পোস্তদানাআরো অনেক কিছু।/ বিয়ে হয়ে গেল।/ পেয়ারাতলায় ঘরবাড়ি/ বিস্কুটপ্যাকেটের খাটপাতার সবুজ বালিশ।/ সন্ধ্যার আগেই/ জামাই বউতে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল।/ কারণ আর কিছুই নয়/ দু’ জনের কেউই ঝগড়া করতে জানে না।

 

দুটি কারণে আমি এই কবিতাটিকে আলোচনায় এনেছি। এই কবিতাটি গ্রামের বা অর্ধশহুরে শিশু-কিশোরদের পুতুল খেলা বা বউ/জামাই খেলার কথা মনে করিয়ে দেয়। দেখুন ‘কলাগাছের মাংস’, ‘ইটের মরিচ’, ‘ঘুনের পোস্তদানা’ ‘বিস্কুটপ্যাকেটের খাট’ এই ইনগ্রিডিয়েন্সগুলো কেমন জীবন্ত করে তোলে আমাদের শৈশবকে। অথচ কবিতায় এই বিষয়গুলো একেবারেই নতুন। আর অন্য যে বিষয়, যেটি এই কবিতার মূল লক্ষ, তা হচ্ছে, খানিকটা দুঃখ, খানিকটা ছন্দহীনতা, মানুষের জীবনে বড় দরকার। ‘সন্ধ্যার আগেই/ জামাই বউতে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল।/ কারণ আর কিছুই নয়/ দু জনের কেউই ঝগড়া করতে জানে না’  

অন্ত্যানুপ্রাস এই কবির বেশ পছন্দ। প্রায় কবিতাতেই হঠাৎ তিনি একটি/দুটি অন্ত্যানুপ্রাস ব্যবহার করে ফেলেন। পুরো কবিতা মিল দিয়েও লিখেছেন বেশ অনেক। ‘সভ্যতা ও আন্দামান-নিকবর’ তেমনি একটি কবিতা। এই কবিতাগুলো যখন পড়ি তখনই বুঝি ছন্দে, অনুপ্রাসে তিনি সিদ্ধহস্ত। 

 

একজন দেহ মেলে অন্যজন চেটে খায় নুন

একজন দেয় জল অন্যজন তরল আগুন

বোঁটা থেকে ফুল ছিঁড়ে ফোটা ফোটা দুধ

দুয়ে মিলে পান করে তাঁরার বুদ্বুদ।  

 

এই চারটি পঙক্তিতে নরনারীর চিরায়ত সঙ্গমদৃশ্য পরিস্ফুট হয়েছে। অন্য একটি কবিতা থেকে একটি চিত্রকল্পের উদ্ধৃতি দিই। ‘তখন সিলিং ফ্যান বোঝে – দু’ডানার পরী/ কী দুঃখে সংসার ছেড়েছিল’ [কবিতাঃ যদিও নদীর মতো]। একটি মেয়ে আত্মহননের পথ বেঁছে নিয়েছে, তা কবি প্রকাশ করলেন এমন নান্দনিকভাবে, এটিই কবির কাজ, কবির কলমবাজবৃত্তি।

‘ঠিকানাগুলো হারিয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেঃ কোলকাতা ১৯৭৮’ এই দীর্ঘ শিরোনামের কবিতাটিতে তিনি লিখেছেন, ‘যে ট্রামে যাবার কথা ছিল/ ছিনাল নদীর মতো কোমর বাকিয়ে চলে গেল’। মনে হল যেন পকেটে পয়সা নেই জেনে এক ছিনাল মাগী তার গতর বাকিয়ে চলে গেল ভিন্ন খদ্দেরের কাছে। কখনো কখনো প্রিয় শহরের সকল সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায় প্রিয় মানুষের অনুপস্থিতিতে। কবি তাই বলেন, ‘ইলোরা-ব্রততী ছাড়া এ শহর ঘন ঘোর মিছে।’ আরেকটি অসাধারণ উপমা, ‘অথচ এখন আমি পিপড়ে-লাগা পেস্ট্রির মতন/ ডবল ডেকার দেখি’। জনবহুল দেশে একটি ডবল ডেকার বাসে ওঠার জন্য শত শত মানুষ বাসটিকে ঘিরে ধরেছে। ঠিক যেন পেস্ট্রির গায়ে আটকে থাকা শত শত পিঁপড়ে। জনবহুল কোলকাতা শহরকে এই একই কবিতায় তিনি দেখেছেন এভাবে, ‘কোলকাতার ম্যাচবাক্সে কাঠির মতন লোকজন’।

নতুন নতুন উপমা এবং দৃশ্যকল্প তৈরীতে তিনি সিদ্ধহস্ত। তার সমসাময়িক কবিদের কেউ কেউ যখন কবিতায় গল্প বলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তখন তিনি মনোনিবেশ করেছেন ইঙ্গিতময় উপমা সৃষ্টিতে। এটি হয়ত তাকে সাধারণ পাঠকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে কিন্তু কবিতায় শিল্পের যে দাবী, নতুন কিছু সংযোজন করার যে দাবী, তা তিনি মিটিয়েছেন। 

কবি ময়ূখ চৌধুরীর উপমা/উৎপ্রেক্ষা এবং চিত্রকল্প তৈরী করার ক্ষমতা বুঝবার জন্য নিচে তার তিনটি কবিতা উপস্থাপন করছি।   

 

 

সম্পর্ক

 

কতো নিশিপাখি

তারা ছিঁড়ে আনতে গিয়ে আজও ফিরে নাই।

আকাশের কালো গর্ত এ রকম খাদ্য ভালোবাসে,

এ কথা জেনেও তুমি উড়াল দিয়েছ।

 

কিন্তু মনে রেখো

এখনও কিছুটা রোদ তাকিয়ে রয়েছে বারান্দায়,

যেখানে তোমার দুঃখ প্রায়ই তুমি শুকোতে দিয়েছ। 

 

ছেলেটা কোথায় গেলো

 

ছেলেটা কোথায় গেলএখন দেখি না কেন তাকে?

বুক জুড়ে এ নগরে এতো লোকেদের ভীড়

পাখি-দম্পতিহীন বহুতল মানুষের নীড়,

তবু কেন সারাক্ষণ মনে হয় কী যেন কী নেই!

একদিন জল ছিলকাজলের টান ছিল চোখে

একদিন বৃক্ষ ছিলফুল ছিল আঙুলের নখে

নদীতে জোয়ার এলে ডালপালা মেলে দিত নদী

জলের সখির সঙ্গে এসে যেত কতো মাছরাঙা!

এখন মাটির নিচে সমাহিত সেই সব মাছের কঙ্কাল

একদিন গাছ ছিলশাখাপ্রশাখার হাতছানি পেয়ে এসেছিল পাখি

এখন মাছের কাঁটা ক্যাকটাস হয়ে গেছে বেলকনির টবে।

সংসারের খড়কুটো ঠোঁটে নিয়ে উড়ে এসেছিলপেড়েছিল নীল ডিম,

ছেলেটার হাত ছুঁয়েছিলশেফালির বোঁটায় রক্তিম

লজ্জাটুকু ছুঁয়ে দেখেছিলডুব দিয়ে দেখেছিল জলের আড়ালে মাছঘাস,

শিমুলের লাল। সেগুন গাছের পাতা নেই আজবাটালির ফুলে

এখন পাখির খাটে ডিম পাড়ে ডানাহীন মেয়েমানুষেরা।

মেঘে নয় বিজ্ঞাপনে ঢেকে গেছে আমার আকাশ,

অনেক বাল্বের চাঁদএখন জ্যোৎস্নায় বুক হাতছানি দেয়

বহুতল-ভবনের ফাঁকে।

ছেলেটা কোথায় গেল! এখন দেখি না আর তাকে।

এখন রেলের বিটে ওড়ে না তো এক-আনার রূপচাঁদা ঘুড়ি,

মাদারবাড়ির বুড়ি মারা গেছে বহুকাল আগে। ছেলেটা কোথায় গেল

কে পাঠালো বনবাসে তাকেনাকি নিজে নিজে কোনো ফড়িঙের

পিছু নিতে নিতে

উড়ে গেছে দূরে কোনো উত্তর পাহাড়ে নাকি চোখের আড়ালে

বড় হতে গিয়ে আজ বুড়ো হয়ে গেছে ! কে জানে কোথায় থাকে!

কেউ কি দিয়েছে দুঃখ তাকে?

রিকশার পেছনে ঝুলে গিয়েছিল নন্দনকাননফিরে এসে

মার্বেল হারানো কষ্টে বসেছিল রেলবিটে একা।

যদি কেউ পাও তার দেখাতাকে বোলো,

এখন আকাশে মেঘউঠোনে বর্ষার জলঅপেক্ষায় থৈ থৈ ঘরে

রুলটানা কাগজের পৃষ্ঠা হাতে নিয়ে

নৌকা বানাতে গিয়ে নীলোফার ছেলেটাকে আজও খোঁজ করে।

 

 

দেখা

 

তখন বুঝিনি আমি হারিয়েছি, -- কী কী হারিয়েছি।

--জামার বোতাম থেকে শুরু করে ঘন দৃষ্টিপাত,

সর্বশেষ প্রতিশ্রুতি।

পেছনে তাকিয়ে দেখি দীর্ঘশ্বাসসবুজের বিষন্ন ছায়ায়

রোদের করুণ হাসিসর্বশেষ অতীত আমার।

ঝাউবনে লেগেছে বাতাসদূরের সমুদ্রে ঢেউপাহাড়েও হাতছানি তার।

আয়নায় ধরেছি মেলে নিজ মুখ -- কেবল প্রচ্ছদ

পাণ্ডুলিপি চলে গেছে সমুদ্রের কাছে। খুঁজি তাকে বার বার,

নিজের মনের সঙ্গে একটু দেখাও আজ হলো না আমার।

Comments

  1. গুণী কবি-সাহিত্যিকদের নিয়ে আপনার লেখাগুলো পড়ে, তাঁদের সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারছি। এই লেখাটি পড়ে ও বেশ ভালো লেগেছে।আপনার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অনুরোধ রইল।

    ReplyDelete
  2. খুবই ভালো লাগল। আমি চলমান করোনারুদ্ধ সময়ে ময়ুখ চৌধুরীর কাব্যগুলো পড়ছি। তুমুল জনপ্রিয় হতে পারে এমন প্রায় শ'খানেক কবিতা চিহ্নিত করেছি আমি।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

অসাধারণ এই শিল্পীর জীবনের গল্প বড় করুণ

  [এই সময়ের অত্যন্ত প্রতিভাবান শিল্পী সারফুদ্দিন আহমেদ। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে। আর্ট কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন ,  আর শুধু ছবি আঁকেন। নানান মাধ্যমে ,  নানান বিষয়ের ছবি। সারফুদ্দিন আহমেদের ছবি থেকে চোখ ফেরানো যায় না ,  আপনাতেই ওঁর নান্দনিক সৃষ্টিকর্মে দৃষ্টি আটকে যায় ,  কী জল রঙ ,  কী অ্যাক্রিলিক ,  কিংবা স্রেফ পেন্সিলের ড্রয়িং। এই গুণী শিল্পীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো।]       ভারত আমাকে চোখ দিয়েছে ,  বাংলাদেশ দিয়েছে দৃষ্টি -     সারফুদ্দিন আহমেদ     কাজী জহিরুল ইসলামঃ  ব্যাক গ্রাউন্ডে তবলা বাজছে আপনি ছবি আঁকছেন কাচের ওপর।    এই যে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ছবি আঁকা, এই ছন্দটা ছবিতে কিভাবে ধরেন? আর কোনো শিল্পী ছবি  আঁ কার সময় যন্ত্রানুসঙ্গ ব্যবহার করেছেন?   সারফুদ্দিন আহমেদঃ   কাঁচ নয়,   এটি এক বিশেষ ধরনের কাপড়-নেট। এই নেটের উপরে বর্তমানে আমার এক্সপেরিমেন্ট চলছে।    জহিরুলঃ ও ,  ফেইসবুকে যখন ছবিটি দেখি কাচের মতো ...

শিল্প কী?

  আমার শিল্পভাবনা || কাজী জহিরুল ইসলাম ||   যখন থেকে, জেনে বা না জেনে, লেখালেখির সঙ্গে জড়িয়েছি, তখন থেকেই এই বিতর্কের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছি, শিল্পের জন্য শিল্প না-কী জীবনের জন্য শিল্প। এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে হলে শিল্প কী তা উপলব্ধি করা দরকার। আমি খুব সতর্কতার সাথে  ‘ উপলব্ধি ’  শব্দটি ব্যবহার করছি,  ‘ জানা ’  দরকার বলছি না। আমি সাধারণত বিখ্যাত মানুষের উদ্ধৃতি দিয়ে কোনো ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই না। প্রবন্ধ লেখার প্রচলিত ধারা হচ্ছে তথ্য-উপাত্ত এবং বিখ্যাতদের সংজ্ঞার আলোকে কোনো ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করা। আমি এই ধারা থেকে বের হয়েই কিছু লিখতে চাই। আমি শুধু লিখতে চাই আমার উপলব্ধির কথা। এবং এ-ও বলি, আমার উপলব্ধির যেটুকু আপনার ভালো লাগে সেটুকুই আপনি নেবেন, আমি কোনো সংজ্ঞা তৈরী করতে চাই না যা অন্যদের গ্রহন করতে হবে। তবে আমি সকল বিখ্যাত মানুষের কথাই জানতে চাই, পড়তে চাই। তারা কী লিখেছেন, বলেছেন তা জানার আগ্রহ আমার রয়েছে। আরো সুস্পস্ট করে যদি বলি, আমি সকলকেই গ্রহণ করতে চাই, কিন্তু দেবার সময় শুধু আমারটাই দেব, আমার মত করে।  মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক (সৃজনশীল এবং মননশীল) ক্...

কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতা || আবুল কাইয়ুম

কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতা: জাতীয়-বৈশ্বিক মেলবন্ধন   || আবুল কাইয়ুম ||    কবি যদি হন বিশ্বপরিব্রাজক ,  তবে তিনি তো কবিতায় আঁকবেন তাঁর দেখা দুনিয়ার ছবি। বৃহত্ত্বকে আশ্লেষ করার পরিণামে স্বাভাবিকভাবে তাঁর মধ্যে জন্ম নেবে মানবিক মহত্ত্ববোধ ,  তা যে কাব্যাদর্শের লাঠিতে ভর করেই হোক। আশির দশক থেকে ক্রমবিকশিত কবি কাজী জহিরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একথা সত্যি । পর্যাপ্ত বিশ্বভ্রমণের অভিজ্ঞতায় আলোকিত হয়েছেন বলেই তিনি যে কোনো সঙ্কীর্ণতার উর্ধ্বে থেকে নিজেকে উদারনৈতিক মানবিক চৈতন্যে সংগঠিত করতে পেরেছেন ,  বিশ্বমানবতা ও বিশ্বশান্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত রেখেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্বে জড়ো হয়েছে বৃহত্তর সমষ্টিচেতনা ,  তাঁর প্রেম ও প্রার্থনা মানব কল্যাণের আশ্রয়ে গড়ে উঠেছে। তার লেখনীতে নানা দেশের মানুষের জীবন ,  সংস্কৃতি ,  প্রেম ,  ত্যাগ ও সংগ্রামের চালচিত্র কীভাবে উঠে এসেছে তা তাঁর কবিতার সংস্পর্শে না এলে বোঝা যাবে না। তাঁর  ‘ এল সালভাদর ’  শীর্ষক কবিতার কথাই ধরা যাক। এই অত্যুজ্জ্বল কবিতার মাত্র কয়টি বিস্ময়কর পংক্তিই শুধু এখানে তুলে ধরছি-    হণ্ডু...