Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ভ্রমণরচনা

ভয়কে জয় করার গল্প

অ্যা জার্নি টু জন জে ।। কাজী জহিরুল ইসলাম ।।   ম্যানহাটনকে আড়াআড়ি ক্রশ করে ছুটছি ইস্ট সাইড থেকে ওয়েস্ট সাইডে। লক্ষ জন জে কলেজ। হালকা তুষারপাত শুরু হয়েছে। দেখতে দেখতে ফুটপাত, দেয়ালের কার্নিশ শাদা হয়ে গেল। এক চিলতে শহর ম্যানহাটন। এই শহরে আমি কখনোই যানবাহনে চড়ি না। দালানের সারি আমার ভালো লাগে না, কংক্রিটের বস্তি মনে হয়, কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে এই শহরের দালানগুলো আমার ভালো লাগে, এই শহরের মানুষগুলো ভালো লাগে। হাঁটতে হাঁটতে মানুষ দেখি, দালান দেখি, দোকান দেখি, বিভিন্ন মডেলের নতুন নতুন গাড়ি দেখি। এই শহরের প্রতিটি রাস্তায়ই উপচে পড়া মানুষের ভিড়, এবং আমি টের পাই, মানুষের ভিড়ই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। আমার কাছে মনে হয় মানুষের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই, সেই মানুষ যেমন মানুষই হোক। নাক বোঁচা, চোখ ছোটো, চুল কম বা ন্যাড়া মাথা, বেটে কিংবা কালো, যেমনই হোক, সকল মানুষই সুন্দর। কত রঙের মানুষ, কত রকমের মানুষ, একেকটি মানুষ যেন একেকটি গল্প। আমি সেইসব গল্প কুড়িয়ে কুড়িয়ে আমার ঝুলিতে তুলে নেবার চেষ্টা করি। এই দুর্যোগের দিনে বেরুবো না ভেবে ফোন দিই রাজুকে। অধ্যাপক রাজু ভৌমিক। জন জে কলেজের ক্রিমিনোলোজি বিভাগে...

হেমন্তের পত্রবৃষ্টি - ভ্রমণ রচনা

হেমন্তের পোকোনো মাউন্টেনে দু’দিন || আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু|| “ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে।” আমেরিকায় ফাগুন মাস নেই, এখন বসন্তকালও নয়। এখন অটাম বা হেমন্তকাল, শীতের দেশের “ফল” বা পাতা ঝরার মওসুম। চিরহরিৎ কিছু গাছের পাতা ছাড়া সব পাতা ঝরে পড়ার সময়। আমেরিকার বনে বনে এখন রঙয়ের ছড়াছড়ি। আলবেয়ার কাম্যু যথার্থই বলেছেন, “হেমন্তকাল হলো দ্বিতীয় ঋতু যখন প্রতিটি পাতা ফুল হয়ে যায়।” হেমন্তের প্রকৃতির রূপ বর্ণনায় জার্মান কবি রেইনার মারিয়া রিলক্ ভাববাদী হয়ে গেছেন: “পাতা ঝরছে, অনেক ওপর থেকে ঝরে পড়ছে, যেন উদ্যানগুলো মরে যাচ্ছে শূন্যতার উচ্চতায়, ------ আমরা সবাই ঝরছি, এই হাত পড়ে যাচ্ছে, তবুও এমন একজন আছেন, যিনি তার চিরন্তন শান্ত হাতে সকল পতনকে ধারণ করেন।” বাংলাদেশে শরত ও হেমন্তকালের পার্থক্য তেমন বোঝা যায় না। দু’টোই এক মনে হয়। সেখানে ছয় ঋতুর কারণেই ঝামেলাটা হয়েছে। এক একটি ঋতুকে দুই মাস করে ভাগ করা হয়েছে। যখন এ ঋতুচক্র নির্ণয় করা হয়েছে তখন ঋতু নির্ণয়ের জন্য সম্ভবত জ্যোতির্বিজ্ঞানগত ও আবহাওয়াগত দুটি দিককে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। সেকারণে আমাদের বর্ষা ও গ্রীস্ম যেন শেষই হয় না। একটা লম্বা সময় জুড়ে গ্রীস্ম ও বর্ষা একক...

স্বামীকে সুখী করার জন্য মেয়েরা তৈরি হয় কুহোবাসকালে

  কুহোবাসিনী || কাজী জহিরুল ইসলাম ||    কুহোবাসের গল্প নরমা আমাকে আগেই বলেছিল। নরমা মুয়াম্বাজি। নাইজেরিয়ার মেয়ে।   এফিক সম্প্রদায়ের বাস নাইজেরিয়া এবং ক্যামেরুনে। দক্ষিণ নাইজেরিয়ার একটি প্রদেশ ক্রস রিভার, যার রাজধানী কালাবার। কালাবারই হচ্ছে এফিক সম্প্রদায়ের মূল আবাসভূমি। এফিক ভাষায়, আকোয়া আকপা, এটিই কালাবারের আদি নাম। ওবান পর্বতে জন্ম নেয়া কোয়া ফলস থেকেই তৈরী হয় খরস্রোতা কোয়া নদী। এই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করাই ছিল এফিকদের আদি পেশা। অর্থাৎ এফিকরা ছিল মূলত কৈবর্ত জাতি। কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন ইওরোপীয়রা পশ্চিম আফ্রিকায় দাস সংগ্রহের জন্য আসে তখন তাদের সাথে হাত মেলায় এফিকরা, হয়ে ওঠে দাস ব্যবসায়ের মধ্যস্থতাকারী। কালক্রমে ইওরোপিয় ভাষা এবং তাদের আচার আচরণ এফিকরাই রপ্ত করে সকলের আগে। কিন্তু তা সত্বেও কিছু আদি সংস্কৃতি আজো পালন করে এফিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা। সেগুলোরই একটি কুহোবাস। এফিকরা বিশ্বাস করে যে মেয়ের কোমর যতো মোটা সেই মেয়ে ততো বে শি  সুন্দরী। বিষয়টি এফিকদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওদের সংস্কৃতি এবং জীবনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথা হলো মেয়েদের ‘কোমর ...

জেনেভার পথে

জেনেভার পথে কাজী জহিরুল ইসলাম জাতিসংঘ অফিসের পায়ের কাছে এসে থামলো একটি বিশেষ বাস, যাবে ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। আমি এবং রাও লাফ দিয়ে উঠে পড়ি। আর কেউ নেই। যাত্রী আমরা দুজনই। দানিয়ুব নদীর ওপর বিশাল ব্রিজ। ব্রিজে ওঠের আগে একটি গোল চত্বর প্রদক্ষিণ করলো বাসটি। তখনই লক্ষ্য করি, চত্বরের ভেতরে একটি ভাঙা টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ে গোধূলী সন্ধ্যার আধো অন্ধকারে একজন মাঝবয়েসী লোক কি যেন খুঁজছে। ওর হাতে একটি মলিন কাগজ, পরনে কোড়া কাগজের মতো মলিন এবং ছেড়া শার্ট। নোংরা প্যান্ট। লোকটির মাথার চুল শীতের ন্যাড়া ডালপালার মতো ধুসর, দুপাশের কান ঢেকে নেমে এসেছে টেবিলের ওপর। রাও দেখেনি, আমি ওকে ডেকে দেখাই। যখন আমরা দানিয়ুবের মাঝখানে, হঠাৎ দার্শনিকের মতো রাও বলে ওঠে,  জাতি না পুছো সাধু কি পুছ লি জিয়ে গ্নান মোল কারো তালওয়ারি কা  পাঢ়া রাহো দো মিয়ান।  বোধ হয় গোল চত্ত্বরের, আপাত দৃষ্টিতে, অস্বাভাবিক লোকটিকে দেখে রাওয়ের কাছে সাধু-সন্ত কেউ মনে হয়েছে। আমি বলি এর অর্থ কি? ও ইংরেজিতে যা বলে তা বাংলা করলে দাঁড়ায়, সাধুর কি জাত তা জানতে চেয়ো না বরং তার জ্ঞানের খবর নাও। তরবারি কিসের তৈরি তা জানার চেয়ে জানো...

ফ্রাঙ্কফুর্ট টু বুদাপেস্ট

ফ্রাঙ্কফুর্ট টু বুদাপেস্ট কাজী জহিরুল ইসলাম আকাশে ধাতব ডানা মেলে দিয়েছে লুফথানসার রূপালি ঈগল। শন পাপড়ির মতো নরোম মেঘ কাচের জানালা ছুঁয়ে ছুয়ে ফিরে যাচ্ছে, পায়ের নিচে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে ফ্রাঙ্কফুর্ট। রাও প্লেনের জানালায় উঁকি দিয়ে বলে, অফ ইডাজিয়েন ফ্রাঙ্কফুর্ট। আমি বলি অফ ইডাজিয়েন মারিনো।  দেড় ঘন্টার ফ্লাইট। নীল ইউনিফর্ম পরা ক্রুরা বেশ দ্রুত গতিতে কাজ করছে। এই সময়ের মধ্যেই খাবার এবং পানীয় সার্ভ করতে হবে। একজন বয়স্কা জার্মান নারী, যার ছোটো চুল সজারুর কাটার মতো কপাল থেকে ঘাড় অবধি একটি সাঁকো তৈরি করে মাথাটাকে নদীর মতো দুভাগ করে দিয়েছে, তিনি রাগী রাগী মুখে অদ্ভুত এক হাসি ধরে রেখে হাঁটাহাঁটি করছেন। মাথার দু'পাশের চুল প্রায় কামানো। আঁটোসাটো পোশাক পরা ক্ষিনাঙ্গী নারী রোবটের মতো প্লেনের এমাথা- ওমাথা হাঁটছেন আর অন্য দুজন, যারা বয়সে তরুণ, একজন নারী আর একজন পুরুষ, ভয়ে তটস্থ। বুঝতে পারছি ছিপছিপে বুড়িটিই ওদের প্রধান। একটা বিয়ার আর স্যান্ডুইচ খেতে খেতেই ক্যাপ্টেনের কন্ঠ শোনা গেল। দেড় ঘন্টার ফ্লাইট অবতরণের সময় এসে গেছে। স্মুথ ল্যান্ডিং। জার্মান পাইলটের তারিফ করতেই হয়। সাধারণত ছোটো প্লেনগুলোর ল্যান্...

ফ্রাঙ্কফুর্টে চার ঘন্টা

ফ্রাঙ্কফুর্টে চার ঘন্টা কাজী জহিরুল ইসলাম চা র ঘন্টার ট্রাঞ্জিট। চুপচাপ বিমান বন্দরে বসে থাকবো? কিছুতেই নয়। দ্যাট ইজ নট মি। রাও কাইকুই করছিল, অচেনা শহর, যদি টাইমলি ফিরে আসতে না পারি? আমি বলি, গ্যারান্টি দিচ্ছি, তোমাকে বুদাপেস্টের প্লেনে তুলে দেব। ত্রিশ সেকেন্ডে জার্মান ইমিগ্রেশন। করোনার সুফল। নিচে নেমে এক সুন্দরীকে ধরি। বুদ্ধি দাও, হাতে চার ঘন্টা, তোমার শহরকে উল্টে-পাল্টে দেখতে চাই। মেয়েটি ইংরেজি জানে। হাসি দিয়ে বলে, উল্টে-পাল্টে দেখতে পারবে না, তবে ফ্রাঙ্কফুর্টের একটা আমেজ সাথে করে নিয়ে যেতে পারবে। সোজা হপটুয়াখে চলে যাও। ট্যাক্সি নেব? ও বলে নিতে পারো, তবে আমি হলে ট্রেনে যাব। আমি কি ওর চেয়ে কম স্মার্ট, ও ট্রেনে গেলে আমি কেন পারবো না। দরকার হলে জার্মান শিখে ফেলবো। রাওকে বলি, ফলো মি। ১৭ ইওরো দিয়ে দুজনের গ্রুপ ডে পাস কিনে ছুটে যাই ট্রেনস্টেশনে। প্লাটফর্ম ওয়ান থেকে এস নাইন। ১৭ মিনিটের রাইড। হপটুয়াখে নেমে দেখি একদল পশুপ্রেমিক নীরবে পশু হত্যার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। ওদের সাথে মোটাসোটা বেশ কিছু কুকুরও যোগ দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের সাথে আমার ছবি তুলে দিয়ে রাও হাসতে হাসতে মরে যায়। আমি বলি হাসছো কে...