Skip to main content

কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতা || মতিন বৈরাগী


কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতা 

ভবিষ্যৎ কবিতার অজানা সড়ক

 

|| মতিন বৈরাগী || 







 এখনতো আকাশের স্ট্রিটে হাঁটে ডিজিটাল নারদ

 ইথারের ওভেনে সেদ্ধ হয় বাতাসের ডিম

 রাত্রির বাগানে ফোটে ছোট ছোট দীর্ঘাশ্বাস

 অন্ধকারের ফরাশ বিছিয়ে বসেন-ই পীর 

 

সময়ের এই প্রস্থে মানুষের ভাবনায় যে নতুন অনুষঙ্গ উপস্থিতমানুষের যে ভাবনা বাস্তবতা ও পরাবাস্তবতার দৃশ্যগুলোতে প্রবেশ করছে তা দেখতে পাচ্ছেন কবি আকাশের স্ট্রিটে হাঁটে ডিজিটাল নারদ’ কবিতার মধ্য দিয়ে । সভ্যতার নতুন যাত্রায় টেকনোলজির যে উৎকর্ষতা মানুষকে নিয়ে চলেছে তার জ্ঞাত জগৎ থেকেতার চারপাশ থেকেআরেক জগতেযা মানুষের মনের জগতের হ্যালুসিনেশনের মতো‌ বাস্তব ও অবাস্তবের সংকটআর তাতে ভাবনার গতি দ্বিধা ও দ্বিরুক্তির ভেতরে প্রকাশিত হয়ে পড়ছে এলোমেলো এক কল্পনায় যা সত্য নয় তবু যেনো এমন এক প্রকাশ যে সত্য হলে হতেও পারে। ডিজিটাল নারদমিথের নারদের চারিত্রিক বৈশিষ্টগুলোকে ইলেক্ট্রণ জগতে এনে তার সমতাকরণ আর অলিক ভোঁজবাজির মতো একটা মনের সংকট নানা প্রতীকে বিস্তারিত যার অস্তিত্ব আছে বস্তুজগতে বস্তুর মতো এবং ভাবনায় আছেপরিমিতিহীনতায় আছেঅপরিমিতির মধ্যে আছে একটা অভাবিত প্রকল্পেতখনি কেবল ইথারের ওভেনে সেদ্ধ হয় বাতাসের ডিম। এই পঙক্তি কাব্যিক হয়ে ওঠে জীবনযাপন প্রণালীর মধ্যে এবং রাত্রির বাগানে’ তখন ফোটে ছোট ছোট দীর্ঘশ্বাস’ আর অন্ধকারের ফরাশ বিছিয়ে বসেন ই-পীর। এই কল্পণায় বাস্তবের অগ্রগতি এবং মনোজগত এই দুইয়ের একটা বিধান রয়েছে। তিনিই একালের মোড়লনিয়ন্ত্রকতিনিই বহুজাতিক কোম্পানীনানা চেহারায় আবির্ভূত।  তার কেরামতিতে আমরা দেখি দুধভরা ওলান ঝুলিয়ে হাঁটে বরফের গাইমুখ দেয় সেল্যুলার ঘাসে’ তারপর কষ্টের টুথব্রাশে দাঁত মেজে’ আমরা স্নেহের ঝাপটা দিই চোখে-মুখে। সারাদিন পার করি স্বপ্নের জামায় বোতাম লাগাতে লাগাতে। রৌদ্রের ঠোঙায় করে’ তখন সিঙারা কিনে আনে মেঘের ছেলেরা’ আর বিকেলটাকে ল্যাঙ মেরে সন্ধ্যাবাবু ধুতি গুটিয়ে বসেন  চিন্তার ছাদে। উরু ফাঁক করে’ তখন শুয়ে পড়ে রাত্রি’, অসহায় অথবা বারবনিতাএক বাধ্যবাধকতার নিয়মে আবদ্ধ।

 

যে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেনকি হলোকবিতা কি এমনএর কি অর্থ হয়কবিতা কি অর্থহীন প্রলাপকিন্তু যদি নিবিষ্ট হয়ে আমরা পাঠে বসি এবং এই বয়ানগুলো আমাদের চলমান চেতনায় নিয়ে মিলিয়ে দেখি তা হলে দেখবো যে বলার ভঙ্গিতে রয়েছে এক জাদুকরী মোহমায়াযা ছড়িযে রয়েছে বাস্তবেও। এটাই কি জাদুবাস্তবতা নয়এই কবিতা আমাদের হাতছানি দেয়নানা ভাবে প্রলোভনে ফেলে এবং আমাদের লুট করেআমরা কষ্টের টুথব্রাশে দাঁত মাজি’ ‘স্নেহের ঝাপটা দিই চোখে-মুখে’ আর স্বপ্ন দেখি, ‘সন্ধ্যাবাবু ধুতি গুটিয়ে বসেন চিন্তার ছাদে  দিন ফুরায়।  উরু ফাঁক করে  শুয়ে পড়ে রাত্রি। এসব নানা দৃশ্যহীনতার ভেতর এক দৃশ্য যা আমরা বুঝি না কিন্তু বুঝিযা তৈরী করে এক ঘোরের জগত।

 

কবিরা আগামীর কবিতা কেমন লিখবেন এর একটা আন্দাজ আমরা আকাশের স্ট্রিটে হাঁটে ডিজিটাল নারদ’ কবিতাটি থেকে অনুমান করে নিতে পারি। এই কবিতাটি নানা ভাবনা দিশা বিদিশার সাথে আমাদের যুক্ত করে। কাজী জহিরুল ইসলাম হয়ত নিজের অজান্তেই নির্মাণ করেছেন ভবিষ্যৎ কবিতার অজানা সড়ক।

 

দেখো ভিনিয়াসদেখো লিথুনিয়া

দেখো প্রিয় জন্মভূমির অনুর্বর ধুলিকণা

শীতল উপত্যকা এবং আধুনিক মস্কো

দেখো জেনারেল উইন্টারের দেশ

তোমাদের পাথরের চোখগুলো মেলে ধরো

দেখো কী বিভৎস দাঁতাল শুয়োরের দল

আমার গলায় বসিয়েছে ইস্পাতের দাঁত

অথচ মুখে ওদের ভুবন ভুলানো হাসি

গণতন্ত্রের ব্যাপক আস্ফালনে

প্রিয় পিত্রিভূমির গলায় ওরা ঝুলিয়ে ভিক্ষার বেশাতি...

হে দেশবাসী তোমরা আবার কমরেড হও

এবার সত্যিকিারের কমরেড..[ লেনিনের ভাষণ ]

 

এই কবিতাটি ১৯৯৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পার্টির মুখপত্র একতায় বিশেষ ভাবে ছাপা হয়। গদ্যের লিরিকে বলিষ্ঠ এক বক্তব্য যার আবেগগুলো পরিমিতির মধ্যে ঝুর ঝুর করে ঝরে পড়ছে আর কবিতা হয়ে উঠছে এক কমরেডের বিদায় ভাষণ যার প্রান্তগুলো একই কেন্দ্রমূখি এবং যখন বলেন ‘বিদায় আজারবাইজানের উষ্ণ মরুভূমি/বিদায় সাইবেরিয়ার দুর্ধর্ষ জেনারেল/ওয়াশিংটনের পায়ে মস্তক নোয়ানো অতি সভ্য মস্কো তোমাকেও বিদায়। এই ভাষণভাবকবিতায় যে আবেগ তা যেনো সমপুষ্টি নিয়ে বসে গেছে কবিতাটির গায়েনির্মাণের বিশেষ গুণে। এখানেও সেই এক ঈশ্বর আনন্দ উৎসবে মেতেছে হোয়াইট হাউজ’ দ্বারা স্পষ্টতই তার ভূমিকা এবং বিজয়ের বিষয়টি আর আলগা থাকেনি। কবি যা অনুভব করেছেন তা অনুভব করতে পারেননি আমাদের প্রগতিবাদীগণ পতনের আওয়াজে ছাতাটা বুজিয়ে খুঁজছেন ঈশ্বরমানে ধনীপ্রভুরাজা, স্বামী, অধিপতি যিনি অপরকে অধীন করেন । মঙ্গলময় ঈশ্বর’ এ তিনি বলেন’ ‘মানুষগণতোমরা শোনো এবং বিশ্বাস করো’ এখানেও বিবৃতিগুলো আবেগদীপ্ত এবং সম্মোহনপূর্ণ। এখানে ঈশ্বর বসবাস করেন মাটির ঘরেতিনি কোনো দৈববাণী পাঠান না এই যে ‘এই মাটির ঘরে/মৃত্তিকা বেষ্টিত এই পরিপাটি ঘরেই তার বসবাস’ এবং তিনি এই ঈশ্বরকেই নিজের ঈশ্বর বলে মানছেন এবং বলছেন আমার ঈশ্বর প্রেরণ করে না কোনো দৈববাণী/ ক্রোধের লানত ছুড়ে পোড়ায় না অবিশ্বাসীদের ফসলের মাঠ’ এই অভিজ্ঞতা তার কর্ম-উপলক্ষ ভ্রমণ থেকে কুড়াণো অভিজ্ঞতা যা তিনি দেখেছেন বসনিয়ায়কসোভোতেদেখেছেন অফ্রিকায়এশিয়ার নানা দেশে। আর কবিতাটি শেষ হয়েছে আমার ঈশ্বর হাসেনিষ্পাপ নির্মল হাসির মতো নিটোল পঙক্তিতে। 

 

আমাদের বুকে পা রেখে মঞ্চে ওঠেন মহান ঈশ্বর

 আমরা ঈশ্বরের পায়ে চুমু খেয়ে

 প্রার্থনার সংগীতে মগ্ন হই

 ঈশ্বর তুমিও তৈরি থেকো

 একদিন আমরাও মঞ্চে উঠব

 মানুষের ভার তোমাকেও বুক পেতে সইতে হবে’ 

 

[পারিবর্তন]

 

 কিংবা

 

শাসকেরা মিথ্যার বেশাতি ফেরি করে প্রতিদিন।

আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়ি তবু ব্যালটের বাক্সে

গণতন্ত্র গণতন্ত্র তসবিহ জপি সারাক্ষণ

স্বপ্নের স্বদেশ! প্রত্যাশার আলো ক্রমশই ক্ষীণ

মরে যেতে যেতে বলি স্বপ্ন একটুকরো থাক সে 

হৃদয়ের খুব কাছে তবুসুখের অনুরণন। 

 

[হতাশা নগর ]

 

এই যে প্রতিদিনের মৃত্যুপ্রতিদিনের এক প্রবঞ্চনার মধ্যে জীবন যাপনএ যেনো এক নিয়তি যাকে বহন করে চলেছে একদল মানুষ। তারা প্রতারিতপ্রবঞ্চিত এক দাস্যজীবনের বোঝা টানছে।

 

ভাল কবিতার জন্য দরকার অভিজ্ঞতাবিশ্বকে জানানিজের মধ্যে তার মগ্নতার অধিষ্ঠান তৈরি করাপ্রকাশে উপযুক্ত ভাষাকে বাহন করাতা হলেই ভাষা আভিধানিক অর্থ থেকে বেরিয়ে এসে নতুন অর্থের দ্যোতনা দেয় পাঠকের মনে। সেরকম অনেক কবিতা রয়েছে কাজী জহিরুল ইসলামের । নানা অভিজ্ঞতার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে তার কবিতায়রয়েছে গম্ভীর বাক্যবিন্যাসচমৎকার সব উপমার ব্যবহার এবং মাপা ছন্দের কাজ। কাজী জহিরুল ইসলাম মানবিকতার পক্ষের কবিমানুষই তার কাছে হয়ে উঠেছে দীপ্তিমান ঈশ্বর আর তা একারণে যে বহুজাতিক অর্থনীতিএককেন্দ্রিক বিশ্বপরিকল্পনা যে ঈশ্বরের ভূমিকা নিয়েছে তা রুখতে মানব ঈশ্বরের জাগরণ অনিবার্য। এই বাণীই ব্যপ্ত হয়েছে কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতায়। বহু বছর আগে তার সম্পর্কে কবি আল মাহমুদ বলেছিলেন, ‘বাংলাভাষার শ্রেষ্ঠ কবি-তারুণ্যকে আমি প্রবাসে দেখতে পাচ্ছি। পঞ্চাশের আরেক প্রধান কবি শহীদ কাদরীকেও দেখি কবি কাজী জহিরুল ইসলাম সম্পর্কে বাংলা ভাষার একজন প্রধান কবির উন্মেষ’ বলে উচ্ছসিত হতে।

 

রামপুরা, ঢাকা। আগস্ট ২০১৪।  

Comments

Popular posts from this blog

অসাধারণ এই শিল্পীর জীবনের গল্প বড় করুণ

  [এই সময়ের অত্যন্ত প্রতিভাবান শিল্পী সারফুদ্দিন আহমেদ। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে। আর্ট কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন ,  আর শুধু ছবি আঁকেন। নানান মাধ্যমে ,  নানান বিষয়ের ছবি। সারফুদ্দিন আহমেদের ছবি থেকে চোখ ফেরানো যায় না ,  আপনাতেই ওঁর নান্দনিক সৃষ্টিকর্মে দৃষ্টি আটকে যায় ,  কী জল রঙ ,  কী অ্যাক্রিলিক ,  কিংবা স্রেফ পেন্সিলের ড্রয়িং। এই গুণী শিল্পীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো।]       ভারত আমাকে চোখ দিয়েছে ,  বাংলাদেশ দিয়েছে দৃষ্টি -     সারফুদ্দিন আহমেদ     কাজী জহিরুল ইসলামঃ  ব্যাক গ্রাউন্ডে তবলা বাজছে আপনি ছবি আঁকছেন কাচের ওপর।    এই যে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ছবি আঁকা, এই ছন্দটা ছবিতে কিভাবে ধরেন? আর কোনো শিল্পী ছবি  আঁ কার সময় যন্ত্রানুসঙ্গ ব্যবহার করেছেন?   সারফুদ্দিন আহমেদঃ   কাঁচ নয়,   এটি এক বিশেষ ধরনের কাপড়-নেট। এই নেটের উপরে বর্তমানে আমার এক্সপেরিমেন্ট চলছে।    জহিরুলঃ ও ,  ফেইসবুকে যখন ছবিটি দেখি কাচের মতো ...

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর সাক্ষাৎকার || অষ্টম পর্ব ||

[লেখক, সাংবাদিক, অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর সাক্ষাৎকারের অষ্টম  পর্ব আজ প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম।]          দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ বাসস - কে অকার্যকর করেছে  – মঞ্জু    জহিরুলঃ  আপনি ফেলোশিপ নিয়ে দিল্লীতে ছয়মাস ছিলেন, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং পেশাগত অভ্যাসের কারণে কাছে থেকে দেখার/বোঝার চেষ্টা করেছেন ভারতের এবং উপমহাদেশের রাজনীতি। আমরা দেখি ভারতের রাজনীতিতে গায়ক, নায়ক, লেখক, সাংবাদিকের আবির্ভাব ঘটে সব সময়ই এবং তারা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখেন। বাংলাদেশে এই ধারা খুব সম্প্রতি শুরু হলেও আমাদের জনপ্রিয় খেলোয়াড়, শিল্পীরা নিজেদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করা ছাড়া রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। এমন কি ধর্ষণ, অন্যদেশকে ট্রানজিট প্রদান, উপর্যুপরি সড়ক দূর্ঘটনা, পরিবেশ ধ্বংসকারী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি ইস্যুতেও তারা নীরব। অথচ তাদের জনপ্রিয়তা এবং রাজনীতি সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত, যা ভারতে দেখা যায়। বিষয়টি যদি আপনার মতো করে ব্যাখ্যা করেন।  মঞ্জুঃ   দিল্লিতে আমার অবস্থানকালকে আমি নানা দিক থ...

কানের কাছে নারী কন্ঠ

  স্বপ্নের ঐশ্বর্য   || কাজী জহিরুল ইসলাম ||   ছুটির দিন। লম্বা সময় ধরে ঘুমাবো। কিন্তু তার আর উপায় নেই। কানের কাছে নারী কন্ঠ। বেশ আত্মবিশ্বাসী কন্ঠ। ক্রমাগ ত  কথা বলে যাচ্ছেন এক অপরিচিতা। আমি লাফ দিয়ে উঠি। কে তিনি ?  আমার স্ত্রী বলেন ,  রুবানা হক ,  শোনো কী বলছেন। রুবানা হক প্রয়াত ব্যবসায়ী আনিসুল হকের স্ত্রী। আমাদের কৈশোর-উত্তীর্ণ কালে আনিসুল হক ছিলেন আমাদের হিরো। টিভি উপস্থাপনায় অন্য এক আধুনিকতা নিয়ে হাজির হন তিনি। এরপর আমরা ধীরে ধীরে তার ব্যবসায়ীক সাফল্য ,  সাংগঠনিক সাফল্য দেখতে দেখতে বড় হই। খুব সাম্প্রতিককালে ,  আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ,  কেউ একজন বলেছিলেন ,  তার স্ত্রী রুবানা হকও খুব ভালো কথা বলেন। কিন্তু রুবানা হকের কথা শোনার সৌভাগ্য আমার হয়নি। দুই যুগ ধরে দেশের বাইরে থাকার কারণে এই সময়ে স্টার হয়ে ওঠা অনেকের সম্পর্কেই আমার ভালো ধারণা নেই।  তার কথায় এমন কিছু ছিল যে আমার পক্ষে ঘুমিয়ে থাকা সম্ভব হয়নি। আমি মুক্তিকে বলি ,  প্রথম থেকে দাও ,  পুরো বক্তৃতাটা আমি শুনতে চাই। আমি পরপর দুইবার তার পুরো বক্তব্যটা শুনি ,  ফ...