Skip to main content

মাত্রাবৃত্তের পানতুম

দুটি পানতুম 

|| কাজী জহিরুল ইসলাম ||  

[সাত মাত্রার মাত্রবৃত্ত ছন্দ] 



 বৈশাখ

 

এসো হে ঝড় এসো স্থবির পৃথিবীকে ঝাঁকুনি দিয়ে যাও


আবর্জনা যত জমেছে এতোদিন সকলি উড়ে যাক


সঘন বর্ষণে তপ্ত মৃত্তিকা শীতল করে দাও


অমিয় ধারাস্রোতে ভিজিয়ে কাদা করো যে মাটি পুড়ে খাক।


 

আবর্জনা যত জমেছে এতোদিন সকলি উড়ে যাক


কৃষ্ণচূড়া শাখে যে লাল ফুটে আছে অর্থহীন সে-কী?


প্রণতি কাম্য না রুদ্র উল্লাসে নামো হে বৈশাখ


এ-ধরা প্রান্তরে দূর্গামূর্তিতে তোমাকে যেন দেখি।


 

কৃষ্ণচূড়া শাখে যে লাল ফুটে আছে অর্থহীন সে-কী?


এ-উপমহাদেশে রুদ্ররোষে আছো স্মৃতির বৈভবে 


উড়িয়ে নেবে জড়া দ্রোহের অক্ষরে তোমাকে আমি লেখি


হোক না কিছু পাখি আজকে নীড়হারা ঝড়ের তাণ্ডবে।


 

এ-উপমহাদেশে রুদ্ররোষে আছো স্মৃতির বৈভবে 


আম্রকলি আর জামের কচি ডালে পুষ্ট হয় ফল 


দারুণ উচ্ছাসে তোমার ছোঁয়া লাগে পত্র-পল্লবে


প্রতিকী মঙ্গলশোভাযাত্রা রয় স্মৃতিতে উজ্জ্বল।


 

আম্রকলি আর জামের কচি ডালে পুষ্ট হয় ফল 


বণিক ঘরে ঘরে খুলেছে হালখাতা পুরনো মুছে দাও


নদীর মরা বাঁকে তীব্র স্রোতে ব্যেপে আসুক নবজল


এসো হে ঝড় এসো স্থবির পৃথিবীকে ঝাঁকুনি দিয়ে যাও।


 

হলিসউডনিউইয়র্ক। ২৬ জানুয়ারি ২০২০।


 

 

জ্যৈষ্ঠ

 

দুপুরবেলা-রোদে হঠাৎ ভেঙে পড়ে বজ্রনিনাদে সে


আকাশ ঢাকা পড়ে অন্ধকার ব্যেপে নামছে ধরাতলে 


প্রখর দাবদাহ শীতল করে দিল ঝড়ের হাওয়া এসে


হঠাৎ বর্ষণে শুকনো খাল হাসে এ-ভাটি অঞ্চলে।


 

আকাশ ঢাকা পড়ে অন্ধকার ব্যেপে নামছে ধরাতলে 


বাতাস মৌসুমী পেন্ডুলাম দোলে আম্র শাখে শাখে 


শিশুরা ছুটে আসে আমের প্রলোভনে আসছে দলে দলে


আম কুড়াতে যাবে ঝড়ের উৎসবে পড়শিকেও ডাকে।


 

বাতাস মৌসুমী পেন্ডুলাম দোলে আম্র শাখে শাখে 


সবুজ পত্রালি হর্ষ উল্লাসে বাজায় করতালি


বকুলরাঁধাচূড়া রঙের আল্পণা গাঁয়ের কোলে আঁকে


হাসছে উচ্ছ্বাসে খলবলিয়ে নদী ছোট্ট টিয়াখালি।


 

সবুজ পত্রালি হর্ষ উল্লাসে বাজায় করতালি


প্রস্ফুটিত ফুলবরুণহিমচাঁপাহিজল ও জারুল


খালের নয়া জলে উজানে মাছ ঠেলে আহা-গেরস্থালি


আঁধার ঠেলে ঠেলে ভোরের সূর্যটা পুরো কদমফুল।


 

প্রস্ফুটিত ফুলবরুণহিমচাঁপাহিজল ও জারুল


বিকেলে মেঘগুলো সঘন হতে থাকে বাঁশের ঝাড় ঘেঁসে


বাবুই কেঁপে ওঠেকাঁপছে বুড়ো দাদী কারো কী হলো ভুল?


দুপুরবেলা-রোদে হঠাৎ ভেঙে পড়ে বজ্রনিনাদে সে।


 

হলিসউডনিউইয়র্ক। ২৮ জানুয়ারি ২০২০ 

Comments

Popular posts from this blog

অসাধারণ এই শিল্পীর জীবনের গল্প বড় করুণ

  [এই সময়ের অত্যন্ত প্রতিভাবান শিল্পী সারফুদ্দিন আহমেদ। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে। আর্ট কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন ,  আর শুধু ছবি আঁকেন। নানান মাধ্যমে ,  নানান বিষয়ের ছবি। সারফুদ্দিন আহমেদের ছবি থেকে চোখ ফেরানো যায় না ,  আপনাতেই ওঁর নান্দনিক সৃষ্টিকর্মে দৃষ্টি আটকে যায় ,  কী জল রঙ ,  কী অ্যাক্রিলিক ,  কিংবা স্রেফ পেন্সিলের ড্রয়িং। এই গুণী শিল্পীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো।]       ভারত আমাকে চোখ দিয়েছে ,  বাংলাদেশ দিয়েছে দৃষ্টি -     সারফুদ্দিন আহমেদ     কাজী জহিরুল ইসলামঃ  ব্যাক গ্রাউন্ডে তবলা বাজছে আপনি ছবি আঁকছেন কাচের ওপর।    এই যে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ছবি আঁকা, এই ছন্দটা ছবিতে কিভাবে ধরেন? আর কোনো শিল্পী ছবি  আঁ কার সময় যন্ত্রানুসঙ্গ ব্যবহার করেছেন?   সারফুদ্দিন আহমেদঃ   কাঁচ নয়,   এটি এক বিশেষ ধরনের কাপড়-নেট। এই নেটের উপরে বর্তমানে আমার এক্সপেরিমেন্ট চলছে।    জহিরুলঃ ও ,  ফেইসবুকে যখন ছবিটি দেখি কাচের মতো ...

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর সাক্ষাৎকার || অষ্টম পর্ব ||

[লেখক, সাংবাদিক, অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর সাক্ষাৎকারের অষ্টম  পর্ব আজ প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম।]          দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ বাসস - কে অকার্যকর করেছে  – মঞ্জু    জহিরুলঃ  আপনি ফেলোশিপ নিয়ে দিল্লীতে ছয়মাস ছিলেন, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং পেশাগত অভ্যাসের কারণে কাছে থেকে দেখার/বোঝার চেষ্টা করেছেন ভারতের এবং উপমহাদেশের রাজনীতি। আমরা দেখি ভারতের রাজনীতিতে গায়ক, নায়ক, লেখক, সাংবাদিকের আবির্ভাব ঘটে সব সময়ই এবং তারা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখেন। বাংলাদেশে এই ধারা খুব সম্প্রতি শুরু হলেও আমাদের জনপ্রিয় খেলোয়াড়, শিল্পীরা নিজেদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করা ছাড়া রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। এমন কি ধর্ষণ, অন্যদেশকে ট্রানজিট প্রদান, উপর্যুপরি সড়ক দূর্ঘটনা, পরিবেশ ধ্বংসকারী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি ইস্যুতেও তারা নীরব। অথচ তাদের জনপ্রিয়তা এবং রাজনীতি সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত, যা ভারতে দেখা যায়। বিষয়টি যদি আপনার মতো করে ব্যাখ্যা করেন।  মঞ্জুঃ   দিল্লিতে আমার অবস্থানকালকে আমি নানা দিক থ...

শিল্পী কাজী রকিবের সাক্ষাৎকার || পর্ব ২ ||

 'কাজের ছেলে মন্তাজ ছিলো আমার প্রথম আর্ট শিক্ষক'   [কাজী রকিব বাংলাদেশের একজন গুণী শিল্পী। রাজশাহী আর্ট কলেজের একজন প্রতিষ্ঠাতা-শিক্ষক। কলেজের প্রথম ক্লাসটি নেবার কৃতিত্বও তার। নিরন্তর ছবি আঁকেন। নানান মাধ্যমে ,  নানান ভাবনার ছবি। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউয়য়র্কে সস্ত্রীক বসবাস। তার স্ত্রী মাসুদা কাজীও একজন গুণী শিল্পী। বৈচিত্রপ্রিয় এই শিল্পীর একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। ধারাবাহিকভাবে তা এখানে প্রকাশ করা হবে। আজ উপস্থাপন করা হলো দ্বিতীয় পর্ব।] পর্ব – ২    জহিরুলঃ  আপনার জন্ম এবং বেড়ে ওঠার গল্প শুনতে চাই। পারিবারিক ,  প্রাকৃতিক ,  সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ কেমন ছিল ,  শৈশব-কৈশোরে ? রকিবঃ   আমার জন্ম চট্টগ্রামের আসকার দীঘির পূব-দখিন পাড়ে ,  ৮৮ হেমসেন লেনে। বাঁশের বেড়ার ঘর উপরে টিনের চালা। দুই কামড়ার ঘর ,  সামনে বারান্দা এক চিলতে। পেছনে একটু ফাঁকা জায়গা তারপর রান্নাঘর। ঐ একটু ফাঁকা জায়গা ছোট বেলায় উঠান মনে হতো। সকালে মা রুটি বানাতেন ,  আব্বা রুটি ছি ঁ ড়ে কাককে খাওয়াতেন ,  কিছু কাক বারবা...