Skip to main content

কবি পার্থসারথি বসুর প্রতি শ্রদ্ধা

প্রিয় পার্থদা

|| দিলারা হাফিজ ||  



আপনাকে তো বলাই হলো না, কত যে ভালোবাসি। আমিও কী আর জানতাম কোন ফাঁকে “কফি ও কবিতা”র আড্ডাকে ঘিরে আমাদের মতো বাউণ্ডুলেদের মধ্যে এতোটা জমেছে প্রণয়মধু। কী করে বুঝবো বলুন? মাত্র তো খুনসুটির স্যুপের পেয়ালায় ধোঁয়া উড়ছিলো তাড়িয়ে তাড়িয়ে, এরই মধ্যে এতোটা যে তাড়াহুড়ো নিমজ্জিত ছিলো, বুঝিনি, একদম বুঝিনি। বিশ্বাস করুন। কফি ও কবিতার টেবিলে প্রতিদিন আপনার 
অপেক্ষায় থেকেছি, কখন আসবেন আপনি করোনাকে তুড়ি মেরে। কোভিড-বীর হিসেবে আপনিই তো আমাদের সাহসের পথ প্রদর্শক 
বলে ভেবেছিলাম। এ কী করলেন পার্থ দা, কবি পার্থ সারথি বসু।

জীবনের মায়ারোদ থাকে না বেশিক্ষণ। সম্পর্কের সুতোগুলো কেবলি ছিঁড়ে ছিঁড়ে 
মেঘমালা হয়ে ভেসে যায় অনন্তে। সাধ্য কী যে,ধরে রাখি তারে!! আপনার মতোই আপনার নিভারণ উচ্চারণ, 
ভীষণ মনোমুগ্ধময় ছিলো। আন্দোলিত হয়েছি, আলোড়িত হয়েছি, কখনো কখনো 
দারুণভাবে অনুপ্রাণিতও হয়েছি।ভীষণ, ভীষণ! কিন্তু সে কথাটিও তো জানানো হলো না আপনাকে। কোভিড জয় করে ফিরে এলেন হাসপাতাল থেকে, এরপর পরেই 
আপনার মর্মসহচরী আপনার মতোই করোনাক্রান্ত হয়ে 
গেলেন একই হাসপাতালে, সেটুকু তো 
আপনার কাছ থেকেই জেনেছিলাম, তাই না? তারপর হঠাৎ কী হলো? একদম বিন্দুবিসর্গ তার জানতে দিলেন না যে! কাজী,মৌ, স্টালিন, আরহাম, এনাম রাজু—কেউ কী কম ভালোবেসেছি, বলুন?
তবু কেন আপনাকে যেতেই হলো, শতাব্দীর এই মারি ও মড়কের পথে? বৈমুখ্য নিয়তির সন্ত যেমন। অনন্তে শান্তিতে থাকুন পার্থদা, শান্তিতে থাকুন। ওম শান্তি।
২৩/৯/২০২০ আইসবোট টেরেস, টরণ্টো।

Comments

Popular posts from this blog

অসাধারণ এই শিল্পীর জীবনের গল্প বড় করুণ

  [এই সময়ের অত্যন্ত প্রতিভাবান শিল্পী সারফুদ্দিন আহমেদ। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে। আর্ট কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন ,  আর শুধু ছবি আঁকেন। নানান মাধ্যমে ,  নানান বিষয়ের ছবি। সারফুদ্দিন আহমেদের ছবি থেকে চোখ ফেরানো যায় না ,  আপনাতেই ওঁর নান্দনিক সৃষ্টিকর্মে দৃষ্টি আটকে যায় ,  কী জল রঙ ,  কী অ্যাক্রিলিক ,  কিংবা স্রেফ পেন্সিলের ড্রয়িং। এই গুণী শিল্পীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো।]       ভারত আমাকে চোখ দিয়েছে ,  বাংলাদেশ দিয়েছে দৃষ্টি -     সারফুদ্দিন আহমেদ     কাজী জহিরুল ইসলামঃ  ব্যাক গ্রাউন্ডে তবলা বাজছে আপনি ছবি আঁকছেন কাচের ওপর।    এই যে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ছবি আঁকা, এই ছন্দটা ছবিতে কিভাবে ধরেন? আর কোনো শিল্পী ছবি  আঁ কার সময় যন্ত্রানুসঙ্গ ব্যবহার করেছেন?   সারফুদ্দিন আহমেদঃ   কাঁচ নয়,   এটি এক বিশেষ ধরনের কাপড়-নেট। এই নেটের উপরে বর্তমানে আমার এক্সপেরিমেন্ট চলছে।    জহিরুলঃ ও ,  ফেইসবুকে যখন ছবিটি দেখি কাচের মতো ...

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর সাক্ষাৎকার || অষ্টম পর্ব ||

[লেখক, সাংবাদিক, অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর সাক্ষাৎকারের অষ্টম  পর্ব আজ প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম।]          দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ বাসস - কে অকার্যকর করেছে  – মঞ্জু    জহিরুলঃ  আপনি ফেলোশিপ নিয়ে দিল্লীতে ছয়মাস ছিলেন, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং পেশাগত অভ্যাসের কারণে কাছে থেকে দেখার/বোঝার চেষ্টা করেছেন ভারতের এবং উপমহাদেশের রাজনীতি। আমরা দেখি ভারতের রাজনীতিতে গায়ক, নায়ক, লেখক, সাংবাদিকের আবির্ভাব ঘটে সব সময়ই এবং তারা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখেন। বাংলাদেশে এই ধারা খুব সম্প্রতি শুরু হলেও আমাদের জনপ্রিয় খেলোয়াড়, শিল্পীরা নিজেদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করা ছাড়া রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। এমন কি ধর্ষণ, অন্যদেশকে ট্রানজিট প্রদান, উপর্যুপরি সড়ক দূর্ঘটনা, পরিবেশ ধ্বংসকারী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি ইস্যুতেও তারা নীরব। অথচ তাদের জনপ্রিয়তা এবং রাজনীতি সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত, যা ভারতে দেখা যায়। বিষয়টি যদি আপনার মতো করে ব্যাখ্যা করেন।  মঞ্জুঃ   দিল্লিতে আমার অবস্থানকালকে আমি নানা দিক থ...

শিল্পী কাজী রকিবের সাক্ষাৎকার || পর্ব ২ ||

 'কাজের ছেলে মন্তাজ ছিলো আমার প্রথম আর্ট শিক্ষক'   [কাজী রকিব বাংলাদেশের একজন গুণী শিল্পী। রাজশাহী আর্ট কলেজের একজন প্রতিষ্ঠাতা-শিক্ষক। কলেজের প্রথম ক্লাসটি নেবার কৃতিত্বও তার। নিরন্তর ছবি আঁকেন। নানান মাধ্যমে ,  নানান ভাবনার ছবি। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউয়য়র্কে সস্ত্রীক বসবাস। তার স্ত্রী মাসুদা কাজীও একজন গুণী শিল্পী। বৈচিত্রপ্রিয় এই শিল্পীর একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। ধারাবাহিকভাবে তা এখানে প্রকাশ করা হবে। আজ উপস্থাপন করা হলো দ্বিতীয় পর্ব।] পর্ব – ২    জহিরুলঃ  আপনার জন্ম এবং বেড়ে ওঠার গল্প শুনতে চাই। পারিবারিক ,  প্রাকৃতিক ,  সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ কেমন ছিল ,  শৈশব-কৈশোরে ? রকিবঃ   আমার জন্ম চট্টগ্রামের আসকার দীঘির পূব-দখিন পাড়ে ,  ৮৮ হেমসেন লেনে। বাঁশের বেড়ার ঘর উপরে টিনের চালা। দুই কামড়ার ঘর ,  সামনে বারান্দা এক চিলতে। পেছনে একটু ফাঁকা জায়গা তারপর রান্নাঘর। ঐ একটু ফাঁকা জায়গা ছোট বেলায় উঠান মনে হতো। সকালে মা রুটি বানাতেন ,  আব্বা রুটি ছি ঁ ড়ে কাককে খাওয়াতেন ,  কিছু কাক বারবা...