প্রিয় পার্থদা
|| দিলারা হাফিজ ||
আপনাকে তো বলাই হলো না, কত যে ভালোবাসি।
আমিও কী আর জানতাম
কোন ফাঁকে “কফি ও কবিতা”র আড্ডাকে ঘিরে
আমাদের মতো বাউণ্ডুলেদের মধ্যে এতোটা জমেছে প্রণয়মধু।
কী করে বুঝবো বলুন?
মাত্র তো খুনসুটির স্যুপের পেয়ালায়
ধোঁয়া উড়ছিলো তাড়িয়ে তাড়িয়ে,
এরই মধ্যে এতোটা যে তাড়াহুড়ো নিমজ্জিত ছিলো,
বুঝিনি, একদম বুঝিনি। বিশ্বাস করুন।
কফি ও কবিতার টেবিলে প্রতিদিন আপনার
অপেক্ষায় থেকেছি, কখন আসবেন আপনি
করোনাকে তুড়ি মেরে।
কোভিড-বীর হিসেবে আপনিই তো আমাদের সাহসের পথ প্রদর্শক
বলে ভেবেছিলাম। এ কী করলেন পার্থ দা,
কবি পার্থ সারথি বসু।
জীবনের মায়ারোদ থাকে না বেশিক্ষণ।
সম্পর্কের সুতোগুলো কেবলি ছিঁড়ে ছিঁড়ে
মেঘমালা হয়ে ভেসে যায় অনন্তে।
সাধ্য কী যে,ধরে রাখি তারে!!
আপনার মতোই আপনার নিভারণ উচ্চারণ,
ভীষণ মনোমুগ্ধময় ছিলো।
আন্দোলিত হয়েছি, আলোড়িত হয়েছি, কখনো কখনো
দারুণভাবে অনুপ্রাণিতও হয়েছি।ভীষণ, ভীষণ!
কিন্তু সে কথাটিও তো জানানো হলো না আপনাকে।
কোভিড জয় করে ফিরে এলেন হাসপাতাল থেকে, এরপর পরেই
আপনার মর্মসহচরী আপনার মতোই করোনাক্রান্ত হয়ে
গেলেন একই হাসপাতালে, সেটুকু তো
আপনার কাছ থেকেই জেনেছিলাম, তাই না?
তারপর হঠাৎ কী হলো? একদম বিন্দুবিসর্গ তার জানতে দিলেন না যে!
কাজী,মৌ, স্টালিন, আরহাম, এনাম রাজু—কেউ কী কম ভালোবেসেছি, বলুন?
তবু কেন আপনাকে যেতেই হলো, শতাব্দীর এই মারি ও মড়কের পথে?
বৈমুখ্য নিয়তির সন্ত যেমন।
অনন্তে শান্তিতে থাকুন পার্থদা,
শান্তিতে থাকুন।
ওম শান্তি।
২৩/৯/২০২০
আইসবোট টেরেস, টরণ্টো।

Comments
Post a Comment