লিপস্টিকের প্রগাঢ় লাল
|| কাজী জহিরুল ইসলাম ||
মানুষের চোখের রঙ কখনো লাল হয়? রাগীব আহসান প্রশ্ন করেন।
আমি বলি, হয়, যখন মানুষ রেগে যায়।
এটা কেবল সাহিত্যে, বাস্তবে কারো কারো চোখ এমনিতেই লাল হয়। অবশ্য তাঁদের সংখ্যা তেমন বেশি না। রাগে কখনো চোখ লাল হয় না। কিন্তু একজন বড় শিল্পী মানুষের চোখ আঁকতেন লাল রঙ দিয়ে।
আমি নামটি শোনার জন্য তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি।
তিনি বলেন, ভিনসেন্ট ভ্যান গো। এমনিতে বুঝবেন না। খুব কাছে যান, দেখবেন চোখের রঙ লাল। শিল্পীর দৃষ্টি কত রকম হয়। তিনি হয়ত মানুষের চোখ লাল দেখতেন।
তিনি তো শুধু স্ট্রোক দিয়েই আঁকতেন, তাই না?
হ্যাঁ। অদ্ভুত ব্যাপার। শুধু স্ট্রোক দিয়ে দিয়ে কী অসাধারণ সব কাজ তৈরী করেছেন।
আমার কাছে ভ্যান গো’র একটা কাজ আছে।
বলেন কি?
রিপ্রোডাকশন, অবাক হবার কিছু নেই। তবে ল্যুভ-এর স্যুভেনির শপ থেকেই কিনেছি, বিশাল সাইজের। বাঁধাই করেছি ঢাকার সাজু আর্ট গ্যালারি থেকে।
কোন ছবিটা বলেন তো?
নুন, রেস্ট ফ্রম ওয়ার্ক।
বুঝেছি, মিলেটের খেতে কৃষাণ-কৃষাণী শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে।
এগজাক্টলি।
একটা জিনিস খেয়াল করেছেন এই ছবিতে?
কি বলেন তো, ছবিটা আমার ঢাকার বাসার লিভিং রুমে ছিল। বাসায় ঢুকেই চোখে পড়ত, বেশ সোজা সাপ্টা ছবি, সবকিছুই খেয়াল করার কথা।
পুরুষটির পায়ে জুতো নেই কিন্তু মেয়েটির পায়ে জুতো আছে।
একজোড়া জুতো আর দুটো কাস্তে পাশে রাখা, এটা খেয়াল করেছি।
হ্যাঁ, সেই জুতো-জোড়া পুরুষটির, খুলে শুয়েছে। মেয়েটি পায়ে জুতো নিয়েই শুয়ে পড়েছে। কারণ সে অধিক ক্লান্ত।
এর অর্থ কি?
অর্থ দুটো হতে পারে। মেয়েরা বেশি পরিশ্রম করতে পারে না। অথবা মেয়েটি বেশি খেটেছে তাই অধিক ক্লান্ত, জুতো খোলার আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে।
লিপস্টিকের প্রগাঢ় লাল’ কবিতার ওপর আঁকা রাগীব আহসানের ছবি
১৮৫৩ সালে নেদারল্যান্ডে জন্ম নেয়া এই মহান শিল্পীকে নিয়ে আমরা আরো অনেক কথা বলি। ভ্যান গো বেঁচেছিলেন মাত্র ৩৭ বছর। ঊনিশ শতকে পোস্ট ইম্প্রেশনিস্ট শিল্প বিপ্লব ঘটে ফ্রান্সে। ভ্যান গো এই ধারার শিল্পী হয়ে ওঠেন, যদিও তাঁর প্রথম জীবনের গুরু এন্টন মৌভ ছিলেন রিয়েলিস্টিক পেইন্টার।
আমাদের আলোচনার এ পর্যায়ে সিঁড়িতে সাবধানী পায়ের আওয়াজ। দুজনই সচকিত হই, উৎকর্ণ হই। মুক্তি, ওর হাতে ট্রে, ট্রেতে তিন কাপ চা এবং ইটালিয়ান বাটার কুকি। মুক্তির সাবধানী চোখ ট্রেতে, চায়ের কাপ থেকে ওঠা ধোঁয়ায়।
স্টুডিওতে আধো-আলো আধো-অন্ধকার। ট্রেটা সাইডবোর্ডের ওপর নামিয়ে রেখে সোফায় বসতে বসতে মুক্তি বলে,
ওপর থেকে তোমাদের আলোচনা শুনছিলাম। মনে হলো একটি তথ্য দেই তোমাদের। ভ্যান গো’র ছবি নিয়ে খুব জনপ্রিয় একটি গান হয়েছে।
কোন গানটা বলো তো?
স্টারি স্টারি নাইট, পেইন্ট ইওর প্যালেট ব্লু অ্যান্ড গ্রে...
ওহ হ্যাঁ, এই গান কত কতবার শুনেছি। বিশেষ করে যখন লঙ ড্রাইভে যেতাম, কসোভোতে থাকার সময়, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠের ওপর গম্বুজের মতো নীল আকাশ এই গানের সাথে একাকার হয়ে যেত। আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম।
গানটা এখন শুনতে চাও?
কেন নয়?
মুক্তি ওর সেল ফোনের ইউটিউবে গিয়ে বাজিয়ে দেয় মার্কিন সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব ডন ম্যাক লিয়েনের লেখা এবং গাওয়া সেই বিখ্যাত গানটি, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘ভিনসেন্ট’। গানের কথাগুলো এখানে উল্লেখ করা সঙ্গত হবে মনে করছি।
Starry
Starry night
Paint your palette blue and grey
Look out on a summer's day
With eyes that know the
Darkness in my soul.
Shadows on the hills
Sketch the trees and the daffodils
Catch the breeze and the winter chills
In colors on the snowy linen land.
And now I understand what you tried to say to me
How you suffered for your sanity
How you tried to set them free.
They would not listen
They did not know how
Perhaps they'll listen now.
Starry
Starry night
Flaming flor’s that brightly blaze
Swirling clouds in violet haze reflect in
Vincent's eyes of China blue.
Colors changing hue
Morning fields of amber grain
Weathered faces lined in pain
Are soothed beneath the artist's
Loving hand.
And now I understand what you tried to say to me
How you suffered for your sanity
How you tried to set them free.
Perhaps they'll listen now.
For they could not love you
But still your love was true
And when no hope was left in sight on that starry
Starry night.
You took your life
As lovers often do;
But I could have told you
Vincent
This world was never
Meant for one
As beautiful as you.
Starry
Starry night
Portraits hung in empty halls
Frameless heads on nameless walls
With eyes
That watch the world and can't forget.
Like the stranger that you've met
The ragged men in ragged clothes
The silver thorn of bloody rose
Lie crushed and broken
On the virgin snow.
And now I think I know what you tried to say to me
How you suffered for your sanity
How you tried to set them free.
They would not listen
They're not
Listening still
Perhaps they never will.
রাগীব ভাই গানটি মন দিয়ে শোনেন। গান শেষ হওয়ার পর মুক্তি বলে,
এই গানে শুধু যে তাঁর ‘স্টারি নাইট’ ছবিটির কথাই এসেছে তা কিন্তু না। ভ্যান গোর প্রায় সব শিল্প কর্মের কথায় তুলে এনেছেন ম্যাক লিয়েন।
আমি মৃদু প্রতিবাদ করি, সব শিল্পকর্ম না, তাঁর বহুল আলোচিত বেশ কিছু শিল্পকর্ম হতে পারে। কেননা তিনি মোট ২১০০টি ছবি এঁকেছিলেন যার মধ্যে ৮৬০টি ছিল তেলরঙের কাজ।
রাগীব ভাইয়ের ভেতর থেকে একটি আক্ষেপ বেরিয়ে আসে।
অথচ বেঁচে থাকতে ভদ্রলোক কোনো মর্যাদাই পেলেন না। তাঁকে তো লোকেরা পাগল বলতো। মানসিক সমস্যাও ছিল তাঁর।
আমি বলি, আমার কি মনে হয় জানেন, ভ্যান গো’র কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না। তিনি ছিলেন অন্যরকম, আর দশজন মানুষের মত নয়।
সে তাঁর নিজের কান কেটে ফেলেছিল, এটা জানেন তো?
না, জানি না তো।
শুধু কেটেই ফেলেন নি। তা পার্সেল করে এক বেশ্যার কাছে পাঠিয়ে দেন, যার কাছে তিনি নিয়মিত যেতেন। কথিত আছে সেই নারী বলেছিলেন, তোমার কান খুব সুন্দর। তাই তিনি নিজের কান কেটে তাঁকে উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দেন।
[পরে এই গল্পটি যাচাই করার জন্য আমি গুগলে খোঁজাখুঁজি করি। তাঁর কান সুন্দর এ কথা সেই নারী বলেছিলেন কিনা তা পাই নি। তবে গল্পটি যুক্তিগ্রাহ্য হতে পারে। না হলে কাটা কান তাঁকে কেন পাঠাবেন। তিনি রেজর দিয়ে কান কেটে ফেলেন তাঁর বন্ধু বিখ্যাত পেইন্টার পল গোগাঁর সাথে মনোমালিন্যের কারণে। তখন তিনি প্যারিসে। পরে তিনি নিজের একটি প্রতিকৃতি আঁকেন। কান কাটা ভ্যান গোর প্রতিকৃত। ব্যান্ডেজ করা বাম কান।]
রাগীব ভাইয়ের কণ্ঠে আর্গুমেন্ট, তিনি মারা যান কীভাবে জানেন তো?
মুক্তি জবাব দেয়, সুইসাইড। নিজের বুকে গুলি করেছিলেন।
এবার তাহলে বলেন তাঁর মাথায় সমস্যা ছিল কি-না?
আমি বলি, না সমস্যা ছিল না। এই পৃথিবী তাঁকে বুঝতে পারে নি। কে পাগল আর কে পাগল না এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? হয়ত ভ্যান গো ভাবতেন পৃথিবীর লোকগুলো এমন অস্বাভাবিক কেন? তাঁরা রঙের অর্থ বোঝে না!
রাগীব ভাই হাসেন, মে বি ইউ আর রাইট।
হঠাৎ তিনি বেশ উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন, বাই দ্যা ওয়ে ভ্যান গো’র বিখ্যাত ছবি ‘স্টারি নাইট’ যে নিউ ইয়র্কে আছে এটা জানেন তো?
হ্যাঁ জানি, মোমা-তে [Museum of Modern Art]।
তিনি চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে বলেন, আজ আর ছবি আঁকবো না। মনটা খারাপ হয়ে গেল।
এরপর তুলিগুলো জড়ো করে ধোয়ার জন্য বাথরুমের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। রাগীব আহসান সব সময় কাজ শেষ করে তুলি ধুয়ে গুছিয়ে রাখেন। তিনি কখনোই তুলি, রঙ এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখেন না। তিনি কতটা গোছানো মানুষ আমি জানি না, তবে এই একটি ক্ষেত্রে অসম্ভব গোছানো।
আজ আপনি আমাকে বাসায় ড্রপ দেবেন এবং দুটি ক্যানভাস আমি সাথে করে নিয়ে যাবো। শুধু ছুটির দিনে ছবি আঁকলে হবে না। আমার মাথায় ছবি গিজগিজ করছে, সারা সপ্তাহ ধরেই আঁকবো।
তিনি রাতে আমাকে ফোন দেন। তাঁর কণ্ঠে উত্তেজনা। দাঁড় করিয়ে ফেলেছি।
কোনটা?
লিপস্টিক।
মিছিল, রক্ত, এইসব এঁকেছেন?
এখন বলছি না। আপনি এক কাজ করেন, কবিতাটি আবার পড়ে শোনান।
আপনার কাছে আছে না?
আছে, আমি কবির কণ্ঠে শুনতে চাই। কবির এক্সপ্রেশনগুলো বুঝতে চাই।
দাঁড়ান, বইটা খুঁজে নিই।
আমি পড়তে শুরু করি –
‘বিকেলটাকে সেলাই করে রাতের সঙ্গে জুড়ে দিলে
অর্বাচীন এ বালকটিকে ভালোবাসার লাল মিছিলে
টেনে নিলে। বলেছিলে ওর কপালে
প্রলম্বিত চুমু খাবে দিন ফুরালে।
সারা বিকেল হেঁটে হেঁটে ছায়ার সঙ্গে দাবী-দাওয়ার
মিছিলটাও দীর্ঘ হলো। হারানো আর ফিরে পাওয়ার
কত শত গল্প দিয়ে সাজানো সে-বিকেলটা যে হয়েছে পার,
কাঁধ ছুঁয়েছে সিঁদুররঙা লজ্জাবতী নারীর মতো লাল সন্ধ্যার।
বলেছিলে ওর কপালে সুদীর্ঘ এক চুমু খাবে সন্ধ্যা হলে।
জলে-স্থলে
সন্ধ্যা এলো। লিপস্টিকের রঙে ডোবা একজোড়া ঠোঁট
উষ্ণতার এক স্পর্শ দেবে, ভালোবাসার খানিকটা চোট
কামড়ে দেওয়া দাঁতের খোঁচায়, খুনসুটিতে।
বুকপকেটে মায়ের চিঠি, লিখেছে মা, গ্রীস্মকালের এই ছুটিতে
বাড়ি আসিস। লাউ-পাতাতে পুরনো কৈ, শিকেয় তোলা ননী-মাখন,
আরো আরো কত্তো কি-যে, বাড়ি ফেরার খুব প্রলোভন।
প্ল্যাকার্ড হাতে রাষ্ট্রভাষার
স্বাধিকার ও স্বাধীনতার
গণতন্ত্র মুক্তি পাবে
স্বৈরাচার নিপাত যাবে
বিপ্লব ও প্রেম সেই বিকেলে সমান্তরাল যাচ্ছে হেঁটে
মায়ের চিঠি বুকপকেটে
আলতো ছুঁয়ে ভাবছে কি সে?
বাড়ি ফিরে এই গ্রীস্মে
লাজুক মুখে বলবে মাকে লাল মিছিলের কালো দুটি চোখের কথা
ঠা ঠা এক পশলা আওয়াজ, এরপরে সেই নিরবতা.....
জলে-স্থলে সন্ধ্যা এলো
প্রতিশ্রুতি রাখবে বলে কালো চোখের সেই মেয়েটি প্রলম্বিত চুমু খেলো
ওর কপালে।
লিপস্টিকের প্রগাঢ় লাল মিশে গেল অন্য লালে।
[কবিতাঃ লিপস্টিকের প্রগাঢ় লাল]
কিছুক্ষণ পর সেল ফোন টুং করে বেজে ওঠে। নোটিফিকেশনের শব্দ। ম্যাসেঞ্জারের ইনবক্স খুলে দেখি ছবি, এসে গেছে। কবিতাটি আমি লিখি ২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে গ্রামের এক ছেলে, মিছিলে গেছে। অধিকার আদায়ের মিছিল। কিন্তু সে কেন গেল? অধিকার আদায়ের জন্য? নাকি মিছিলের সেই মেয়েটির টানে, যার চোখে গভীর কালো দিঘি, যার ঠোঁটে প্রগাঢ় লাল প্রেম। মেয়েটি বলেছিল দিনের আলো নিভে গেলে ওর কপালে চুমু খাবে। পুলিশের গুলিতে ছেলেটির জীবনের আলো নিভে গেল, ঠোঁটের লিপস্টিক হয়ে গেল রক্তের দাগ। এইসবই ছিল কবিতায়।
প্রথমে বুঝতে পারিনি পেছনে একটি মিছিল, কিন্তু প্লাকার্ডগুলো শূন্য কেন?
রাগীব আহসান বলেন, যা খুশি বসিয়ে নিন, দর্শকের জন্য রেখে দিলাম।
আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে ছবিটা দেখি। কিছুক্ষণ পরে ম্যাসেঞ্জারে আবার টুং। রাত তখন বারোটা। আমার স্ত্রী ঘুমাচ্ছে, মেয়েরা ঘুমাচ্ছে। আমি ম্যাসেঞ্জার খুলে বসে আছি প্রেম ও বিপ্লব কি করে সমান্তরাল হেঁটে যায় শিল্পীর তুলির আঁচড়ে তা দেখার জন্য। ছবিটা পাঠিয়েই রাগীব ভাই আবার ফোন দেন।
পেয়েছেন?
হ্যাঁ পেয়েছি।
কি পেয়েছেন?
ছবি।
তা তো বুঝলাম। ছবিতে কি পেয়েছেন?
মিছিল, গুলি, লাশ।
আর কিছু?
মেয়েটিকেও পেয়েছি, কালো চোখের সেই মেয়েটি, যার জন্য মিছিলে গিয়েছিল যুবক।
প্রেম পাননি?
কথা ছিল লিপস্টিকের রঙ ঠোঁট থেকে নেমে এসে বুকের রক্ত হয়ে যাবে।
তা আর করলাম না। আসলে করেছিলাম, ভালো লাগছিল না, তাই মুছে দিলাম। মেয়ের ঠোঁটটা দেখেন।
আমি ভালো করে ঠোঁটে চোখ রাখি।
হার্ট!
হ্যাঁ, আরেকটু কাজ করবো, ঠোঁটের আদলটা হৃদয় হয়ে যাবে, ওটাই প্রেম, ওটাই কেন্দ্র এই ছবির।
ছবি আঁকা আমাদের উইকেন্ডের প্রকল্প। কিন্তু ছুটির দিনে নানান অনুষ্ঠান/দাওয়াত থাকাতে সব ছুটির দিনে পারা যাচ্ছে না। ১৪ তারিখ পহেলা বৈশাখ। এই শনিবারে হলো না। আমরা বসলাম রোববারে। এদিনও অনুষ্ঠান ছিল, উদীচীর বর্ষবরণ। প্রতিবারই যাই। এবার আর যাওয়া হল না। মুক্তিকে বললাম এবার তুমি যাও, আমি রাগীব ভাইয়ের সাথে ছবির কাজে মন দেই।
এস্টোরিয়া থেকে রাগীব ভাইকে আনতে গেলাম সকাল দশটায়। ফিরতে ফিরতে আমরা কথা বলছিলাম মাইকেলেঞ্জোলোকে নিয়ে।
গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল পার্কওয়েতে উঠেই গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিই। বাঁ দিকে লাগর্ডিয়া এয়ারপোর্ট। বিমান উঠছে, বিমান নামছে। স্বপ্নের আপ্লোড-ডাউনলোড হচ্ছে। একটু এগুতেই বাঁ দিকে ফ্লাশিং লেইক। স্বচ্ছ নীল আকাশ নেমে এসেছে লেকের পানিতে। আমরা ছুটে চলেছি হলিসউডের দিকে। মাইকেলেঞ্জেলো তখন শুয়ে শুয়ে ধর্মশালার গম্বুজে আঁকছেন সিস্টিন চ্যাপেল।

আপনার পদ্য এবং গদ্যের হাত সমান তালে ছুটে চলেছে। প্রতিটি লেখাই বাধ্য করে তুলছে পড়তে। লেখার মান যদি এমন প্রাঞ্জল হয়,তাহলে একজন পাঠক হিসেবে পড়তেও ভালো লাগে। আপনার প্রতি অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
ReplyDelete