অমৃতপথযাত্রী
|| কাজী জহিরুল ইসলাম ||
২৫ মার্চ রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক হিন্দু ছাত্রী সুমনা মিত্র অন্য অনেকের সঙ্গে আটকা পড়ে কলেজ-হোস্টেলে। ২৭ তারিখ সকালে কার্ফিউ কিছুটা শিথিল হলে বান্ধবী নায়লার ফুপাত ভাই রনি তাকে নিয়ে যায় নায়লাদের বাসায়। ওখানে সুমনা উৎকন্ঠার মধ্যে দু’মাস কাটায়। উচ্চশিক্ষিত, ক্রীড়াবিদ, রনি মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। সুমনার জন্যই সে সিদ্ধান্ত নেয় যশোর হয়ে কোলকাতায় যাবে, সুমনাকে, কোলকাতায় ওর বাবা-মার কাছে, পৌঁছে দেবে। ওরা বেরিয়ে পড়ে। হেঁটে, বাসে-বেবী ট্যাক্সিতে চড়ে, এগুতে থাকে ওদের যাত্রাপথ। পথে পথে মিলিটারি-চেকপোস্ট, ধরা পড়তে পড়তেও পড়ে না। পায়ে পায়ে মৃত্যু, নিগ্রহ ওঁৎ পেতে আছে, তবু ওরা ছুটে চলে। এই বিপদসঙ্কুল যাত্রাপথের গল্পই ‘অমৃতপথযাত্রী'।
গল্পটি সুমনা মিত্র বলছেন তার স্বামী বিকাশকে, দেশ স্বাধীন হবার দশ বছর পরে, যখন তিনি পুরোদস্তুর একজন ডাক্তার, আর রনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ।
প্রতিবছর রনির মৃত্যুদিবসে সুমনা রনিদের গ্রামের বাড়িতে, রনির বাবা-মায়ের সাথে, কাটায়। বিয়ের সাত মাসের মাথায় যখন রনির মৃত্যুদিবস আসে তখন সুমনা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়, কি করে সে রনিদের বাড়িতে যাবে। বিকাশকে কি করে বলবে? বিকাশ কি মেনে নেবে? যেভাবে সুমনা রনির কথা বিকাশকে ধীরে ধীরে, সারল্য এবং সত্য প্রকাশের সততা বজায় রেখে, বলেছে তা থেকেই লেখকের গল্প বলার দক্ষতা অনুমান করা যায়।
বইটির একটি চমৎকার ভূমিকা লিখেছেন সাহিত্যিক শওকত আলী। তিনি লিখেছেন, মনজুর আহমদের ‘অমৃতপথযাত্রী’ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা একখানি ছোট উপন্যাস। ছোট, কিন্তু তা শুধু অবয়বেই। ... রচনাটির ক্ষুদ্রতা শুধু তাঁর অবয়বেই, বিষয়ে নয়, পটভূমিতে নয়, ঘটনা বিন্যাসে নয়, এমনকি চরিত্র সৃষ্টিতেও নয়। সবচেয়ে বড় কথা, পাঠকের মনে উপন্যাসখানি যে বোধ সঞ্চার করে সেটি খন্ডিত বা ক্ষুদ্র নয়। অনুমান করি ‘অমৃতপথযাত্রী’ পাঠ শেষ করে, পাঠক আর পাঠপূর্বের মানুষটি থাকবেন না। কারণ ভালোবাসা, মমতা, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, দেশপ্রেম, উদারতা – এইসব আবেগ এবং চিন্তায় তাঁকে আলোড়িত হতে হবে। এবং নিজের মধ্যেই তিনি ঐসব বোধ এবং আবেগকে গভীরভাবে অনুভব করবেন। চাইকি তাঁর চোখের পাতা শুকনো নাও থাকতে পারে।
আমি এ-উপন্যাসের তিনটি দিক আলোকপাত করতে চাই এই আলোচনায়।
পাঠকপ্রিয়তা
গদ্য সাহিত্য যেহেতু কলেবরে বড়, পাঠককে এই দীর্ঘ কলেবরের মধ্যে ধরে রাখা লেখকের একটি বড় দায়িত্ব। এই কাজটি মনজুর আহমদ বেশ সফলভাবে করতে পেরেছেন। প্রথমত গল্পের প্রেক্ষাপট ‘মুক্তিযুদ্ধ’। বাঙালি মাত্রই মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আবেগপ্রবণ। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প, উপন্যাস বা নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালিদের বাড়তি টান থাকা খুবই সঙ্গত। গল্পটি যেহেতু বিপদসঙ্কুল এক যাত্রাপথের, এতে যোগ হয়েছে টান টান উত্তেজনা। পাঠক প্রতি মুহূর্তে অপেক্ষা করছেন এর পরে কি হয়, এর পরে কি হয়, এইরকম একটি উত্তেজনা প্রশমনের জন্য। লেখক একের পর এক উত্তেজনা প্রশমন করছেন আবার তৈরী করছেন নতুন উত্তেজনা। রনি এবং সুমনার মধ্যে কি প্রেম তৈরী হচ্ছে? যাত্রাপথের ঘটনা-দূর্ঘটনায় তৈরী হওয়া আতঙ্ক-উত্তেজনার পাশাপাশি মাঝে মাঝেই পাঠকের মনে এই রোমান্টিক প্রশ্নটি উঁকি দিয়েছে। নূরজাহান নাম নিয়ে বোরকার কালো নেকাবে মুখ ঢেকে রনির হাত ধরে বেরিয়ে পড়া সুমনা প্রথম ধাক্কা খায় মিরপুর ব্রিজ পাড় হতে গিয়ে। প্রথম চেকপোস্ট। রনির বুদ্ধিমত্তার কারণে কোনো রকমে বেঁচে যায়। এর পর থেকে প্রতি মুহূর্তে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা। মানিকগঞ্জে এসে আবারও বিপদ। চেকপোস্টের সৈনিক বাসে উঠে যাত্রীদের একজন একজন করে পরীক্ষা করছে। রনি এবং সুমনা পাড় পেয়ে গেলেও এক ছাত্রকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় সৈনিকেরা। চিৎকার করতে করতে বাস থেকে নেমে যায় তার বৃদ্ধ বাবা।
এমনি একের পর এক বিপদসঙ্কুল ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে উপন্যাসের গল্প, এগিয়ে চলে ওদের অমৃতপথযাত্রা। ভ্রমণের অনুষঙ্গ যুক্ত হওয়াতে গল্পে তৈরী হয়েছে বাড়তি গতি, আর মনজুর আহমদের শুদ্ধ এবং সুখপাঠ্য গদ্য এই প্রবহমানতার মেরুদণ্ড, যা ঋজু কিন্তু মসৃণ। পাঠকপ্রিয়তার দিকটি খুব সচেতনভাবেই মাথায় রেখেছেন লেখক, যা নিশ্চিত করে রামকৃষ্ণপুরের কাছাকাছি গিয়ে ওদের প্রায় বিবসন হয়ে নদী পাড় হওয়া এবং পাড় হওয়ার পরেও মিলিটারি সার্চ লাইট থকে বাঁচার জন্য এ অবস্থায়ই জঙ্গলের ভেতর ছোটাছুটি করার দৃশ্য বর্নণার মধ্য দিয়ে। তখন পাঠকের এই সন্দেহ হতেই পারে যে মনজুর আহমদ একটি ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়টিও হয়ত মাথায় রেখেছিলেন এ-উপন্যাস রচনার সময়।
এ অংশের কিছুটা উদ্ধৃতি দেয়া যাক।
‘কাপড়গুলো নিয়ে তালগাছের আড়ালে চলে গেলো সুমনা। ভিজে ব্লাউজটা খোলার আগে গাছের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে দেখে নিল রনিকে। রনি এদিকে পেছন ফিরে গায়ের পানি মুছছে। ভেজা লুঙ্গিটা তেমনি কাছা দিয়ে পরা। গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে সুমনা দ্রুত হাতে টেনেটুনে খুলে ফেলল ভিজে ব্লাউজ। ভিজে সপসপে ব্রা’টাও খোলা দরকার। পেছনে হাত দিয়ে খুলে ফেলল অন্তর্বাসের হুক। ওটাকে টেনে নামিয়ে আনলো। আপাতত আর ব্রা’র দরকার নেই। শুকনো ব্লাউজটা টেনে নিলো। কিন্তু হঠাৎ তখনই সমস্ত নিস্তব্ধতা ভেঙে খান খান করে চারদিক কাঁপিয়ে কাছাকাছি কোথাও ঠা ঠা করে গর্জে উঠল মেশিনগান। সারা শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল সুমনার। মুহূর্তেই ছুটে এলো রনি। আর সমস্ত কিছু ভুলে ভয়ে আতঙ্কে রনির বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল সুমনা।’
একেবারে বাণিজ্যিক ছবির একটি দৃশ্য। এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য আরো অনেকক্ষণ বিবসনা হয়ে সুমনাকে জঙ্গলে জঙ্গলে ছুটতে হয়। হয়ত বাণিজ্যিক সফলতার কথা বিবেচনা করেই এই অংশটি লেখক মনজুর আহমদ সচেতনভাবে যোগ করেছেন, কিন্তু তা গল্প প্রবাহের সাথে এমনভাবে মানিয়ে গেছে যে কোনোভাবেই তা আরোপিত মনে হয়নি। এটিই একজন সফল লেখকের বৈশিষ্ট্য।
ইতিহাস বর্ণনা
এটি একটি উপন্যাস, কোনো ইতিহাসগ্রন্থ নয় এবং ঐতিহাসিক উপন্যাসও নয়। এ জাতীয় উপন্যাসে ঐতিহাসিক তথ্য, তাও আবার কিছু বিতর্কিত তথ্য, পরিবেশন করা বেশ বিপদজনক। সেই বিপদজনক পথে লেখক মনজুর আহমদ হেঁটেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রায় প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনাকেই গ্রন্থের শেষের দিকে তুলে এনেছেন। গল্পের প্রধান নারী চরিত্রকে লেখক মিছিলে নিয়ে যান। আমরা জানতে পারি মার্চের ২ তারিখে সর্ববৃহৎ ছাত্র সমাবেশ হয়। সেটি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের শেডে। ছাত্রদের হাতে হাতে লাঠি। সেই সমাবেশেই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করেন ছাত্রনেতা আসম আব্দুর রব। সুমনার তখন মনে হয় বাঙালির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েই গেল। পতাকা উত্তোলনের পর বের হয় জঙ্গী মিছিল যা শেষ হয় বায়তুল মোকাররমে গিয়ে।
৩ তারিখে পল্টনে জঙ্গী সমাবেশ হয়। মঞ্চে বুলেটবিদ্ধ মানুষের লুঙ্গি ও জামা পতাকার মতো উড়িয়ে রাখা হয়। বঙ্গবন্ধু সেই মঞ্চে ভাষণ দেন। তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেন। সভাশেষে কথা ছিল তিনি মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন কিন্তু তিনি মিছিলের কর্মসূচিটি বাতিল করেন।
৭ মার্চের ঐতিহাসিক জনসভায়ও সুমনাকে হাজির করেন লেখক। কারণ লেখক এই ইতিহাসটিও বলতে চান। সুমনার বার বার মনে হচ্ছিলো এই বুঝি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন কিন্তু তা না দেওয়ায় সে হতাশ হয়।
পঁচিশে মার্চ, সেই ঐতিহাসিক কালো রাতের একটি বর্ণনাও আমরা পাই এই উপন্যাসে, জানতে পারি নৃশংসতার গল্প। চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সেই ঘোষণা ঢাকায়, নায়লাদের বাসায়, বসে শুনতে পায় সুমনা। ‘নায়লাদের বাসায় রনি ট্রানজিস্টারের বোতাম ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চট্টগ্রাম ধরেছিল। সারাদিন সেদিন ওরা চট্টগ্রামই শুনেছিল। কত রকমের ঘোষণা। কত নির্দেশ। আর এই ঘোষণাতেই সুমনা প্রথম শুনেছিল মেজর জিয়ার নাম। বলা হচ্ছিল, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মেজর জিয়াউর রহমান ভাষণ দেবেন।
মেজর জিয়া, চট্টগ্রাম বিদ্রোহের নায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের সে ভাষণ সেদিন সন্ধ্যায় ওরা শুনেছিল নায়লাদের বাসায় বসেই। মেজর জিয়া নিজেকে বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রভিশনাল কমান্ডার ইন চিফ পরিচয় দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সার্বভৌম আইনসঙ্গত সরকার গঠনের কথাও সবাইকে জানিয়েছিলেন।’
মুক্তিযুদ্ধের এমনি বেশ কিছু ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই গ্রন্থে লেখক উপস্থাপন করেছেন গল্প প্রবাহের মধ্য দিয়ে কিন্তু এই অংশে এসে এটি পরিষ্কার বোঝা গেছে যে তিনি ইতিহাস বলার জন্যই গল্পটিকে এভাবে তৈরী করেছেন। অর্থাৎ গল্পের এই অংশটিকে পুরোপুরি আরোপিত মনে হয়েছে। যদিও তথ্য-উপাত্ত নির্বাচন এবং পরিবেশনে তিনি পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ
স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসে সুমনা। স্বাধীন দেশে কি পেয়েছে বাংলার মানুষ, কেমন বাংলাদেশ পেয়েছে তারা? এইসবও তিনি বেশ দক্ষতার সাথে তুলে এনেছেন। কপোতাক্ষ নদ মরে যাওয়ার কথা যেমন আছে, আছে দ্রব্যমূল্যের অত্যাধিক উর্ধগতির চিত্র। দশ আনার রিক্সাভাড়া হয়ে গেছে দুই টাকা। কেন দুই টাকা হয়েছে তার জবাব দিচ্ছেন একজন রিক্সাশ্রমিক। ‘সবকিছু বাড়তাছে আপা। জিনিসপত্রের দাম বাড়তাছে, চালের দাম বাড়ছে, কাপড়ের দাম বাড়ছে। সবই বাড়ছে। আমরা ভাড়া না বাড়াইয়া কি করুম?
অবাক হয়ে গেল সুমনা। সবকিছুর দাম বাড়ছে? দশ আনার ভাড়া দুই টাকা? স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে এই অবস্থা? মনটা ভেঙে গেল সুমনার। আর কিছু না বলে রিক্সায় উঠে বসল।’
উপসংহার
এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ইতিবাচকতা। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, এই গল্পে উঠে এসেছে। হিন্দু মেয়ে সুমনাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁচিয়েছে মুসলমান যুবক রনি। রনির বাবা-মা এই ঘটনাকে সহজভাবে মেনে নিয়েছে। রনির মৃত্যুর পরেও রনিদের বাড়িতে সুমনার অবাধ যাতায়াত, এমন কী রনিদের বাড়িতে ওর জন্য একটি ঘর আলাদা করে রাখা, বিয়ের পর সুমনার হিন্দু স্বামী বিকাশ শুধু এই ঘটনাকে মেনেই নেয় নি, রনির বীরত্বপূর্ণ মৃত্যুকে শ্রদ্ধা জানানো, সবই ইতিবাচক। এ-রকম ইতিবাচক পরিসমাপ্তি পাঠককে তৃপ্তি দেয়, স্বস্তি দেয়। এই উপন্যাসের সবচেয়ে দূর্বল দিক হচ্ছে ৯৬ পৃষ্ঠার উপন্যাসটি আসলে ৬৪ পৃষ্ঠায়ই শেষ হয়ে গেছে। এর পরের অংশটি পড়ার জন্য পাঠকের আর কোনো আগ্রহ থাকে না। উপন্যাসে দীর্ঘ ভ্রমণের গল্প বলতে চাইলে যা বলার কৌশলে এই ভ্রমণকালীন সময়ের মধ্যেই বলতে হয়। ভ্রমণ শেষ হয়ে গেলে পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়ে যদি না গল্পে নতুন কোনো চমক সৃষ্টি হয়। ৬৪ পৃষ্ঠার পরে লেখক নতুন কোনো চমক সৃষ্টি করতে পারেন নি। তবে যারা ইতিহাস পড়তে অতি-উৎসাহী তারা হয়ত পরের অংশটিও আগ্রহ নিয়ে পড়বেন কিন্তু ফিকশনের পাঠকের কাছে পরের অংশটির কোনো গুরুত্ব নেই।
লেখকের দায়বদ্ধতার কথা আমরা প্রায়শই বলি। লেখক মনজুর আহমদ এই উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, এসব দিক আলোকপাত করে তাঁর সেই দায়বদ্ধতা মিটিয়েছেন ঠিকই কিন্তু উপন্যাসটিকে আরোপিত তথ্য-উপাত্তের ভারে ভারাক্রান্ত করেছেন।
এই উপন্যাসে ব্যবহৃত তথ্য, সময়কাল [দিন-ক্ষণ] রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থানের নাম তিনি নিখুঁত ও সঠিকভাবে উপস্থাপন করেছেন। এতে বোঝা যায়, তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা থেকেই এ-উপন্যাস লিখেছেন, কোনো ধার করা গল্প লেখেননি।
উপন্যাসটি বিচিত্রার ঈদ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল নব্বুইয়ের দশকে। তখন এর কলেবর ছোটো ছিল। পরবর্তিতে তিনি এর কলেবর বৃদ্ধি করে গ্রন্থাকারে প্রকাশের জন্য পান্ডুলিপি তৈরী করেন। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বয় প্রকাশ, ২০১৮-র একুশে গ্রন্থ মেলায়। প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ।



Comments
Post a Comment