ভাষা একটি সাংস্কৃতিক পণ্য
- মাহবুব হাসান
[সাত-এর দশকের কবি মাহবুব হাসান কাদেরিয়া বাহিনীর একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাংলাসাহিত্যে পিএইচডি করেছেন, সংবাদপত্রের সম্পাদনা বিভাগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন দীর্ঘদিন। প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৫৮টি। তার এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন কাজী জহিরুল ইসলাম। এই ব্লগে সেটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। আজ প্রথম কিস্তি প্রকাশ করা হল। প্রিয় পাঠক, চাইলে আপনিও প্রশ্ন রাখতে পারেন, পরের কিস্তিতে আপনার প্রশ্নের উত্তর পত্রস্থ করার চেষ্টা করা হবে। ]
কাজী জহিরুল ইসলাম : বাংলা সাহিত্য পড়েছেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অপ্রাপ্ত বয়সে মুক্তিযুদ্ধে গেছেন, সান্নিধ্য পেয়েছেন বড় ভাই কবি মাহবুব সাদিকের, অগ্রজপ্রতিম কবি রফিক আজাদের। কবিতা লেখার এবং শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করার অনেক অনুকূল পরিবেশ পেয়েছেন আপনি। কেন, কিভাবে এবং কখন কবিতার ঘোরে আচ্ছন্ন হলেন?
মাহবুব হাসান: ধন্যবাদ কবি কাজী জহিরুল ইসলাম আমার সাক্ষাৎকার নেবার জন্য। এখানে বেশ কিছু প্রশ্ন আছে, যা ধারাবাহিকভাবে বলা যাবে না। প্রথমত বড় ভাই মাহবুব সাদিকের প্রত্যক্ষ কোনো সান্নিধ্য পাইনি। তিনি থাকতেন শহরে, আর আমরা তখনো গ্রামে বাস করছি। তবে তিনি ষাটের দ্বিতীয় পর্যায়ের কবি এবং সাহিত্যের ছাত্র হওয়ায় আমি নানা ধরনের বই পড়ার সুযোগ পেয়েছি। আর আমাদের পরিবারে খুব সীমিত হলেও ছিলো বই পড়ার অভ্যাস। সামান্য হলেও কিছু বই তো আমাদের একমাত্র আলমারিতে ছিলো, যা পড়তেন আমার মা। আব্বার কাছে আসতো বিভিন্ন পত্রিকা, দৈনিক আজাদ, মাহেনো সহ আরো দু-একটি, সেই আমার ছেলেবেলায়। ফলে পাঠের একটি আবহ ছিলো। গ্রামে আমাদের পরিবারটি এদিক থেকে এগিয়ে ছিলো। ঠিক এর সাথে যুক্ত হয়েছিলো ষাটের রাজনীতির তীব্র আলোর ঝলক। আমার আব্বা মওলানা ভাসানীর অনুসারী ছিলেন। তবে রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট ছিলেন না। মওলানা ভাসানী পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে গোটা বাংলাদেশের চৈতন্যে জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। সেই সাথে ছিলো শেখ মুজিবের ৬ দফার আন্দোলন। আমরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছি এবং আমাদের সম্পদ লুটে নিয়ে যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা এটা আমাদের অন্তরে গেঁথে গিয়েছিলো। আমাদের পাটের টাকায় ইসলামাবাদ শহরটি নির্মিত হচ্ছে বলে শুনছিলাম। আমার এক কাজিন পাকমিলিটারির ইএমই কোরের সৈনিক ছিলেন। তিনি ৬৫-এর যুদ্ধের পর বাড়িতে এসে জানান, ইসলামাবাদ শহরে রাতের বেলায় একটি সোনামুখি সুঁই ফেলে দিলেও তা লাইটের আলোতে স্পষ্ট দেখা যায়।
জহিরুলঃ এই যে নিজেদের ঘরে বই, বাঙালিরা বঞ্চিত হচ্ছে, এসব থেকে কি ক্ষোভ এবং সাহিত্য তৈরি হচ্ছিল?
মাহবুবঃ ঠিক, ঠিক, এ-সব শুনে আমাদের মনে ক্ষোভ জমে উঠছিলো। আমার কাজিন যুদ্ধ করেছেন খেমকারান সেক্টরে, বিখ্যাত মেজর ভাট্টির নেতৃত্বে। সেই বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের বিজয় আমাদের সিনায় ঝিলিক তৈরি করতো। আমি সে-সময় স্কুলের ছাত্র-রাজনীতির সাথে যুক্ত। আমি ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ছিলাম।
জহিরুলঃ ছাত্র ইউনিয়নের তো দুটি গ্রুপ ছিল?
মাহবুবঃ হ্যাঁ, সে-সময় আমাদের গ্রামের যারা ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলো তাদের ৯০ শতাংশই ছিলো ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য। তবে অধিকাংশই চীনপন্থি, মেননের অনুসারী। কয়েকজন করতো মতিয়া গ্রূপ, মানে মস্কোপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন। কেবল আমার এক চাচাতো ভাই করতো ছাত্রলীগ, তাও নামকা ওয়াস্তে। আমার ও আমাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস গড়ে উঠেছিলো বঞ্চনামুক্ত এক জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্নকে সামনে রেখে। সেটা ৬৫ থেকে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। আমরা মানসিকভাবে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার চিন্তায় মগ্ন ছিলাম। ‘বন্দুকের নল ছাড়া দেশ স্বাধীন করা যাবে না’ এটাই ছিলো আমাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস।
জহিরুলঃ এই রকম কথা তো মাওলানা ভাসানী বলতেন?
মাহবুবঃ তিনিই তো আমাদের গুরু ছিলেন। ক্রমান্বয়ে এই বিশ্বাস পোক্ত হয়েছে আমাদের রাজনৈতিক গুরু লাল মওলানার সান্নিধ্যেএসেই। সেই সূত্রেই আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষা হয়েছে, বন্দুক ও রাইফেলের ডামি দিয়ে ট্রেনিং নিয়েছি। এ-সবই আমাদের দ্রোহী হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। পড়াশোনো ও রাজনীতি আমাকে নির্মাণ করেছে বলে আমি মনে করি।
জহিরুলঃ লেখালেখিটা কখন শুরু হলো?
মাহবুবঃ গ্রামে থাকতেই আমি গল্প লেখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম গল্পে আমি প্রাণ পাচ্ছি না। মাও-এর লাল মলাটের বই, বাংলা কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়ছি। রফিক আজাদ, আবু কায়সার, অরুণাভ সরকার, বুলবুল খান মাহবুব, জওশন খান,মাহবুব সাদিক, সাজ্জাদ কাদির, আরশাদ আজিজ, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (পরে মন্ত্রী হয়েছিলেন) এরা ছিলেন টাঙ্গাইল শহরের সাহিত্য-রাজ্যের দাপুটে মানুষ। তখন আমি থাকি টাঙ্গাইলের বাসায় যদিও পড়তাম গ্রামের স্কুলে। পরে ৭০-এ এসএসসি পাশ করে কাগমারিতে মওলানা মোহম্মদ আলী কলেজে ভর্তি হই। সেখানেই রফিক আজাদকে শিক্ষক হিসেবে পাই। যদিও তার সাথে আলাপ করা হয়ে উঠেনি। পরে তিনি যখন মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য আমাদের গ্রামের বাড়িতে এলেন, তখনই মূলত ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিচয় ঘটে। টাঙ্গাইল থেকে কিছু সাহিত্য সংকলন বেরুতো, আমরা সেখানেই লিখতে থাকি। মূলত মুক্তিযুদ্ধই আমাকে কবি হতে উৎসাহ দিয়েছে। আমি যখন রণক্ষেত্র থেকে মুক্তিযুদ্ধের হেডকোয়ার্টারে এলাম, তখন যুক্ত হলাম পাক্ষিক ‘রণাঙ্গণে’র সাথে। সম্পাদক ছিলেন আনোয়ার উল আলম শহীদ ( রণদূত)। তিনি ছিলেন আমাদের বেসামরিক প্রধান। আর সামরিক প্রধান ছিলেন কাদের সিদ্দিকী। রণাঙ্গনে আমার কবিতা ছাপা হয়েছে ১/২টি। সাইক্লোস্টাইল করে সেই পত্রিকা ছাপানো হতো। মাহবুব সাদিক, নূরুল ইসলাম সৈয়দ, আনিসুর রহমান আর আমি ছিলাম পত্রিকা বের করার দায়িত্বে। মূলত আমার তেমন কোনো কাজই করতে হতো না, সহযোগিতা করা ছাড়া।
জহিরুলঃ তার মানে কি এই যে আপনি সশস্ত্র রণাঙ্গনে ছিলেন না?
মাহবুবঃ না, না, ছিলাম তো। রণক্ষেত্র থেকে আমাকে এখানে নিয়ে আসেন বড় ভাই মাহবুব সাদিক। শহীদ ভাই সম্পাদক হলেও তিনি সময় পেতেন না পত্রিকা দেখার। মূলত দেখতেন ভাইজান ও নূরুল ইসলাম সৈয়দ। নূরু আমার বন্ধু ছিলেন। ওদের বাড়ি আমাদের পাশের গ্রামে। আর আনিস ভাই টেনসিল কাটতেন, আঁকতেন টেনসিলে এবং ছাপতেন সাইক্লোস্টাইল মেশিনে। আমি সার্বিক সহযোগিতা করতাম। আমি একটু ডিটেইল বলছি এ-জন্য যে তাতে বুঝতে সুবিধা হবে কোন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে আমি বেড়ে উঠেছি এবং আমার চেতনা নির্মিত হয়েছে।
জহিরুলঃ আপনার প্রথম লেখা কবে, কোথায় ছাপা হয়?
মাহবুবঃ ঢাকার দৈনিক আজাদ পত্রিকায় আমার প্রথম কবিতা ছাপা হয় ১৯৭২ সালে। তখন সাহিত্য দেখতেন কবি ফরহাদ মজহার। কবিতার ঘোরটি আসে মূলত ৭২ সালে। আমি মওলানা মোহম্মদ আলী কলেজ থেকে টিসি নিয়ে এসে ভর্তি হই ঢাকা কলেজে। মূলত সেটাই ছিলো আমার কবি হয়ে উঠার টার্নিং পয়েন্ট। আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস অটুট থাকলেও যোগ দিইনি আর সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। আমার নেত্রী হাজেরা সুলতানা বহু চেষ্টা করেও আমাকে আর নিতে পারেননি দলের কাজে। ৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সেই ঘোর এতোটাই হয় যে, ক্লাশ, লাইব্রেরি আর আড্ডার বাইরে কবিতাই হয়ে ওঠে ধ্যান-জ্ঞান।
জহিরুলঃ কোন সেক্টরে কোথায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন? কোথায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন?
মাহবুবঃ আমি মূলত ‘কাদেরিয়া বাহিনী’র একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর ছিলো সেটা। মুক্তিযুদ্ধের সময় এটা জানতাম না যে আমরা কোন সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা। আমার ধারনা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ৯০ শতাংশই জানতো না যে তারা কতো নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করছেন। আমরা জানতাম আমাদের কমান্ডার ইন চিফ (সিএনসি) কাদের সিদ্দিকী। আর বেসামরিক প্রধান আনোয়ার উল আলম শহীদ। আর জানতাম মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানী। এর বাইরে জানতাম কেবল পাকিস্তানি সেনাদের, যারা আমাদের শত্রু পক্ষ।
প্রশিক্ষণ নিয়েছি আমাদের ৫ নম্বর কোম্পানির একজন প্রশিক্ষকের কাছে। তিনিও ছিলেন পাক আর্মির সৈনিক। তিনিই আমাদের প্রশিক্ষক ছিলেন। থ্রি নট থ্রি রাইফেল চালনা, এসএমজি চালনা, পজিশন নেয়া, গেঞ্জির কাপড় দিয়ে তৈরি একটি লেস ও তার পেছনে থাকতো একগুচ্ছ গেঞ্জির ছোটো টুকরো, তাকে বলা হতো ‘ফুলথ্রূ’ সেটা দিয়ে রাইফেল সাফ করার সব কায়দা আমি শিখেছি তার কাছে থেকে।
তিনি বল্লার যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন। আমি সেই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। তার নাম ছিল শামসুল। আমার মতো নতুন যোগ দেয়া ছেলেরাই তার হাতে ট্রেনিং পাওয়া মুক্তিসেনা। জায়গাটা বাশাইল থানার পাহাড়ি এলাকার পাহাড়-ঘেষা গ্রাম বহেরাতৈল। এই গ্রামের পশ্চিমে বিশাল বিল। সেই বিলের ওপারে ভারতের এলাকা শুরু। সেই গ্রামগুলোর নাম কাউলজানি, কাইলান।
তো, বহেরাতৈল বাজার বা হাটের খোলা চত্তরে আমাদের পিটি-প্যারেড হতো সকাল বিকাল। বিকেলের প্যারেডের পর কোম্পানির কমান্ডার প্রতিরাতের জন্য একটি কোড ও পাসওয়ার্ড বলতেন। সেই কোড ও পাসওয়ার্ড সবাইকে মনে রাখতে হতো। কারণ রাতে যারা পাহারা দেবে এবং যারা পাহারা তদারকি করতে খুব নি:শব্দে যাবে, তাকে হল্ট করলে যেন সে কোড ও পাসওয়ার্ড বলতে পারে। না বলতে পারলে ধরে নেয়া হবে সে গুপ্তচর, পাকিস্তানিদের জন্য আমাদের খবর নিতে এসেছে।
বহেরাতৈল হাটটি পাহাড়ের কোলে। এখানে সপ্তহে একদিন হাট বসতো। একটি প্রাইমারি স্কুলঘর ছিলো, হয়তো এখনো আছে। এমনও হতে পারে সেখানে এখন হাই স্কুলও প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকতে পারে। পেছনের উচুঁ পাহাড়ের দিকে একটি বাসা-বাড়ি আর বাইরের দিকে একটি চারচালা ছোটো ঘর। সামনে বেশ খোলামেলা জায়গা, ছোটো নয়, আবার বড়ও নয়। এখানেই আমরা কাদের সিদ্দিকীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলাম আমাদের কোম্পানির টুআইসি খন্দকার ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে। তাকে সবাই চেনেন ব্রিগ্রেডিয়ার ফজলু নামে। তিনি ছিলেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সৈনিক। আমাদের পাশের বাড়ির মানুষ। আমাদের প্রিয় ফজলু ভাই। তিনি কোম্পানির সেকেন্ড ইন কমান্ড হলেও, কাজে কর্মে তিনিই ছিলেন কোম্পানির প্রকৃত কমান্ডার। কোম্পানি-কমান্ডার ছিলেন মনিরুল ইসলাম, ছাত্রলীগের একজন কর্মী। তিনি সামরিক কায়দা-কানুন জানতেন না। ফলে ফজলু ভাই-ই সব করতেন। বৈষম্য কেমন সেটা দেখুন এখানে। প্রশিক্ষিত একজন সেনার হাতে কোম্পানির দায়িত্ব থাকলেও তাকে কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেয়নি।
জহিরুলঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, এই ধারণাটিকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করেন? আপনার কবিতায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কতটা প্রবল?
মাহবুবঃ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ শব্দটি পজেটিভ। যারা এই শব্দ ধারণ করেন তারা মুক্তিযুদ্ধকেই যেন ধারণ করেন। যারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি নানা কারণে, তারা যদি চেতনা ধারণ করেন, তাতে কোনো ক্ষতি নেই। বরং আমি বলবো বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য তা গৌরবের। তারা মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের মর্ম উপলব্ধি ও গৌরবকে ধারণ করেন ও বহন করেন। কিন্তু সেই বোধাক্রান্ত মানুষ যদি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে ভিন্ন মতাবলম্বী হলেই ‘রাজাকার’ বলে গাল দেয়, তাহলে বুঝতে হবে ওই লোকটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন না। তিনি ওই চেতনা ধারনের নামে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার কাজে ব্যস্ত। তাদের রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও চেতনা বিরোধী অপতৎপরতা। মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এটি গণমানুষের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য,যাকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ব্যবহার করা যায় না, উচিতও নয়। তবে এই ঔচিত্যবোধ আমাদের না আছে শিক্ষিত জনের মধ্যে না আছে রাজনীতিকদের কথায়-বার্তায়, আচার-আচরণে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হলেও আমরা মূলত দেশপ্রেম থেকেই যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। কারণ এখানে রাজনীতি পাত্তা পায়নি, পেয়েছে গণমানুষের প্রত্যাশা। গণমানুষ চেয়েছে পাকিস্তানিদের নিগড় থেকে দেশ মুক্তি পাক। এ-জন্যে যুদ্ধটি ছিলো গণযুদ্ধ। দেশের প্রতিটি নাগরিক, স্বল্পসংখ্যক রাজাকার, আলবদর ও আল শামস ছাড়া, সবাই যুদ্ধ করেছেন আমাদের সাথে। কাদেরিয়া বাহিনীর তালিকায় শেষতক ১৯ হাজার মুক্তিসেনার নাম থাকলেও, গোটা অঞ্চলের প্রতিটি মানুষই নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধের শরিক ছিলেন। এ-কারণেই এর নাম জনযুদ্ধ।
আমার কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ এক অনিবার্য উপাদান বলতে পারেন। আমি ওই চেতনা ধারণ করি কি না, তা একটি ই-রিলেভ্যান্ট প্রশ্ন। একজন মুক্তিযোদ্ধার মানসিক ও রাজনৈতিক চৈতন্যের রগে-রেষায় লালিত-পালিত হয় জীবনের এই মৌল উপাদান। আমার ও আমাদের অস্তিত্বের অংশ মুক্তিযুদ্ধ।
যারা আমার কবিতা পাঠ করেন, বা যারা পাঠ করতে চান, তারা জানতে ও বুঝতে পারবেন কি পরিমাণ উপমায়, উৎপ্রেক্ষায়, চিত্রকল্পে, রূপোলংকারে, শব্দালংকারের ভেতর দিয়ে সে সব নির্মিত হয়েছে এবং হচ্ছে।
জহিরুলঃ আপনার প্রথম কবিতার বই কখন বেরুলো? প্রথম বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা বলুন।
মাহবুব হাসানঃ আমার প্রথম কবিতার বই বেরিয়েছে ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এই বই বেরুবার কথা ছিলো ১৯৮৩ সালেই। কিন্তু তখন বেরোয়নি প্রকাশক শিল্পতরুর মালিক ও আমার ঘনিষ্ট বন্ধু কবি আবিদ আজাদের সমস্যার কারণে। তবে আমার বই বের করার তাগিদ ওরই ছিলো। আমি অনেকটাই হতাশ ছিলাম। কারণ আবিদের বই ৭৬ সালেই বেরিয়েছিলো মুক্তধারা থেকে। যেহেতু আমি পো-ধরা গোছের কেউ ছিলাম না এবং আজো নই, তাই কোনো প্রকাশকের দ্বারস্থ হইনি। আবিদ আর আমি যখন ব্যবসা করছিলাম, শহীদ কাদরীও ছিলেন আমাদের সাথে, সাঈদ তারেক-দের ফাতেমিয়া প্রেস থেকেই ছাপার কাজটি করার কথা আবিদ বলেছিলো, কিন্তু আমি নানা কারণে সায় দিইনি। পরে সে যখন লালবাগ রোডে ওর নিজের প্রেস করলো, তখনই কাজ শুরু হয় বইয়ের। এক বছর আগেই বইয়ের কভার এঁকে দিয়েছিলো শিল্পী আফজাল হোসেন, এবং ব্যাক কভারের ছবিও তারই তোলা। এক কালারে এমন সুন্দর কভার আমার আর কোনো বইয়ের হয়নি। এর জন্য আফজালকে কখনোই বলা হয়নি যে তোর এই কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের বন্ধুত্ব এমনই যে তা ধন্যবাদের যোগ্যতার মধ্যে নেই। তবে আমার অন্য রকম বই, প্রবন্ধের বইয়ের বেশ কিছু নান্দনিক প্রচ্ছদ হয়েছে। তার মধ্যে আরেক বন্ধু রাগীব আহসান এঁকেছে ‘কবিতার শিল্প উপাদান’, গুপু ত্রিবেদি এঁকেছে ‘কবিতায় পরম্পরার প্রচ্ছদ’। আর ‘শতবর্ষের গল্প’ নামের যে গল্প সংকলন করেছি তার মনোহর প্রচ্ছদ করেছে স্নেহভাজন ধ্রুব এষ। এরা সবাই সামাজিক ধন্যবাদের উর্ধ্বে।
জহিরুলঃ কবিতা ছাড়া আর কি লিখেছেন? আজ ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট, এ-পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা কত? উল্লেখযোগ্য কিছু বইয়ের নাম বলুন।
মাহবুবঃ কবিতাই আমার প্রথম প্রেম। তাই বলে কি কবিতার বইয়ের সংখ্যা খুব বেশি? আমি বলতে পারবো না কবিতার বই ক’টি। আমার দ্বিতীয় প্রেম গবেষণা ও প্রবন্ধ। ৮টি হবে তার সংখ্যা। আমার তৃতীয় প্রেম উপন্যাস ও গল্প। তবে কবিতা এই সেক্টরের যাবতীয় ধ্যান শোষণ করেছে কর্পোরেট সংস্কৃতির লুটেরাদের মতো। একটি বইয়ের ফ্লাপে দেখলাম সেখানে ৮টির নাম আছে। লুকিয়ে আছে আরো একটি উপন্যাস, নাম ‘ফেসবুক’। সেটা বের করেছিলো ঢাকার মুক্তধারা। এ-প্রতিষ্ঠান আমার ‘অর্ধসত্য’ নামের উপন্যাস বের করেছিলো ১৯৮৪/৮৫ সালে। লুকিয়ে থাকা পান্ডুলিপি বাদ দিলেও ৫৫ থেক ৫৮টি বই আমার বেরিয়েছে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে - কবিতাঃ তন্দ্রার কোলে হরিণ, তোমার প্রতীক, আমার আকাশ, স্বপ্নগুলো বিক্রি হয়ে গেছে, নির্জন জানালা, তিনি কথক ছিলেন, তাজা গ্রেনেড কিংবা দিবাস্বপ্ন, তোমার অহনা, চাঁদে পেয়েছে সেই কোন ছেলেবেলা, পরীর পঙক্তিভোজ, শূন্যতার কাঁটাতারে শুয়ে আছি, নিসর্গের নুন, দ্য উইন্ডোজ ডিজুলেট, সিলেকটেড পোয়েমস। প্রবন্ধঃ নজরুলের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা, নজরুলের কবিতায় মিথ ও লোকজ উপাদান, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের কবিতা, কী কথা বলে শব্দেরা, কবিতায় পরম্পরা, কবিতার শিল্প উপাদান। গবেষণাঃ বাংলাদেশের কবিতায় লোকজ উপাদান। এছাড়া বেরিয়েছে কবিতা সমগ্র।
জহিরুলঃ আপনি তো সত্তরের দশকের কবি। এই দশকের কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেকেই বলেন, উচ্চকিত, কেউ কেউ আরো একধাপ এগিয়ে বলেন, স্লোগান সর্বস্ব কবিতার দশক। আপনি এই দশকের কবিতার কোন দিকটি প্রোজ্জ্বল বলে মনে করেন?
মাহবুবঃ সাতের দশকের কবিতা উচ্চকিত বা শ্লোগানসর্বস্ব কি না, আমি জানি না। আমি তো সত্তরের প্রকৃত কবিদের কবিতায় ওই দুটি শব্দের স্বরুপ পাইনি। হতে পারে আমার ভাবনার প্যাটার্নের সাথে যারা ওই শব্দ দুটি কয়েন করেছেন, তাদের সাথে খাপ খায় না, বা খাপ খাবে না। তার দুটো কারণ আছে বলে আমার মনে হয়। এক. দেখবার, বুঝবার ও বিচার করবার রাজনৈতিক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা। আর দুই হলো, ওই দশকের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও বোঝার অভাব। সাতের দশকের কবিতা হলো সদ্য-স্বাধীনতা-উত্তর সময়ের কবিতা। বলতে পারি রাজনীতিশাসিত কবিতা। ছয়ের এবং পাঁচের দশকের কবিদের সাতের দশক কালপর্বে রচিত কবিতাও অনেক বেশি রাজনৈতিক ও সমাজ সচেতন কবিতা। যে রাজনৈতিক রোষ পাকিস্তানি শাসকদের ওপর পাঁচ ও ছয়-এর দশকের কবিতায় আমরা পাই, তার চেয়ে গুণগতভাবে ও বিচারে সাতের দশকের কবিতা উৎকর্ষে ভালো। এর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ নির্মম ও নৃশংস হলেও কবিতায় তার রূপায়ন সাতের কবিদের হাতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ বিদ্রুপ এবং শ্লেষের বাণীতে ভরপুর। আর অ্যালেগরি বা রূপকের হাত ধরে, প্রতীকী ব্যঞ্জনার ভেতর দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে প্রতিবাদের কথামালা। বহু বর্ণিল চিত্রকল্পের, উপমা-উপমানের দ্বৈরথে ফুল্ল হয়ে উঠেছে সাতের দশকের কবিতার মূল স্রোত। যে-রকম অভিনিবেশ দাবী করে কবিতা পাঠের জন্য, সেই মনোযোগ পাঠকের কাছ থেকে সাতের দশকের কবিরা পায়নি। কবিতা তো প্রতীকী শিল্প, যারা শব্দপুঞ্জ নির্মাণ করে থাকেন। আর কে না জানে, মিথ হচ্ছে সেই জিনিস, যার রয়েছে ইতিহাস-পূর্ব সাংস্কৃতিক জীবনের অনেক গল্প। কল্পনার বর্ণাঢ্য রূপায়ন। আমি মনে করি সাতের দশকের কবিতা রাজনীতিশাসিত হলেও তার রয়েছে শীলিত নিম্নকণ্ঠের কারুকাজ। যা অণ্বেষণের দাবি রাখে। আমি সাতের দশকের কবিতার চিত্রকল্পময়তাকে চিহিৃত করতে চাই। কি বিপুল চিত্রকল্প রচিত হয়েছে আমাদের সময়ের কবিতায়।আমি চাই আমাদের কবিতার রূপক, ঘনীভূত রূপক ও চিত্রকল্পের ব্যঞ্জনা উন্মোচন করুক পাঠক সমাজ।আমি চাই আমাদের কবিতায় প্রোথিত মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির বিষয়টি উঠে আসুক আলোচনায়।
আমি চাই আমাদের ব্যবহৃত মিথ ও মিথিক্যাল আসপেক্ট কতো বিচিত্ররূপে বাঙ্ময় হয়েছে কবিতায়, ইতিহাসের রক্তাক্ত অংশ ও চলমান রাজনীতির ক্ষতাক্ত এলাকার ভাষ্য কতোটা ধারণ করেছে সাতের কবিতা, তার রূপ উঠে আসুক। আমি চাই লোকজ সংস্কৃতির গহন সম্পদ কিভাবে এবং কতো ব্যাপক এলাকা জুড়ে ব্যবহৃত হয়েছে আমাদের কবিতায়, তা বেজে উঠুক তার গৌরব নিয়ে।
জহিরুলঃ এই দশকের সবচেয়ে উজ্জ্বল কবি কারা? নিজেকে সেই তালিকায় দেখেন কি?
মাহবুবঃ আমি সবার নামই বলবো। সাতের সব কবিই ভালো কবি। কবিতা ইনডিভিজুয়ালের সৃষ্টি হলেও তার পেছনে কাজ করে তার যাপিত জীবনাচারের সূক্ষাতিসূক্ষ লোকাচার বা সংস্কৃতি। ফলে ওই দশকের কবিতাকে যৌথ সৃষ্টির প্রপঞ্চও বলতে পারি আমরা। আবার এলিট বাংলাদেশির সাথে গ্রামীণ বাংলাদেশির সাংস্কৃতিক তফাৎ রয়েছে। এলিট সংস্কৃতি নগরায়নের ফলে ইউরো-কালচারের অনুগামী এবং তাদের ধ্যান ও জ্ঞান-চোখ ও মনন নির্মিত হয়েছে ইউরো-করপোরেট চেতনার আলোকে। গ্রামীণ সংস্কৃতির ধ্যান-জ্ঞান লোকজসংসার থেকে জাত। হাজার হাজার বছরের যে লোকসংস্কৃতির কথা আমরা বলি—সেই পরিপ্রেক্ষিত মনে রাখলে গুণী ও প্রকৃত কবি কে, বা কারা, তা চেনা সহজ। সাতের কবিদের মধ্যে কারা ভালো কবি, তা এই চেতনার আলোতে অবলোকন করতে হবে। তাহলেই পেয়ে যাবেন তাদের নাম ও সন্ধান।
জহিরুলঃ কি বৈশিষ্ট্যের কারণে উত্তর প্রজন্মের পাঠক আপনার কবিতা পড়বে?
মাহবুবঃ কে কেন কোন কবিতা পড়বেন তা তার নিজের ব্যাপার। তিনি যদি কবিতা-কর্মীও হন, তাহলেও তাকে উত্তর-প্রজন্মের, আগের প্রজন্মের, কবিতা পাঠ করতে হয় নানা কারণে। তার মধ্যে কবিতার স্ট্রাকচারাল ফর্মের চেয়েও অনেক জরুরি সেখানে ব্যবহৃত শব্দসমূহ, নতুন কয়েনকৃত শব্দ এবং তার অর্থ-ব্যঞ্জনা, নতুন চিত্রকল্পময়তার রূপারূপ আর সময়ের সাথে সাথে নিজেকে সজাগ-সচেতন করে রাখার জন্য অনবরত কবিতা পাঠ করতে হয় মনোযোগ দিয়ে, অভিনিবেশ সহকারে। করপোরেট সংস্কৃতির এই যুগে, বিশ্ব এখন একটি বৃহত্তর মৌলিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। এই গ্রামের কোন অংশে কি লেখা হচ্ছে তা পড়া ও জানা জরুরি। কোনো ইজম-বন্দী হওয়া নয়, কবিতা বাঁচে তার মাটির গন্ধ আর সৃজনের মাল-মসলায় সেজে। নিজস্বতায়। সেই আত্মপরিচয় নিহিত আছে কবির আপন সংস্কৃতিতে।
এখন আপনি বলতে পারেন, আপনাকে আমাকে পৃথিবীর কবিরা চিনবে কি করে? তারা তো আমাদের ভাষা জানে না। আমরা তো তাদের ভাষা জানি না। এটা একটি বড় সমস্যা বা সঙ্কট বটে। এ-জন্যে সবাইকেই পরস্পরের প্রতি এগিয়ে আসতে হবে। ভাষা একটি সাংস্কৃতিক পণ্য, বা পরিবহন মাধ্যম। সে কবিকে পরিবহন করে, তার চিন্তাধারা ও সৃষ্টির ভেতর দিয়ে পরিবহন করে তার লোকজীবনের সম্পদ। আর কবিতা তো সেই পরিবহনের মালিক, এটা বুঝতে হবে।
জহিরুলঃ ষাটের দশকের ৩ জন প্রধান কবিকে শনাক্ত করতে বলা হলে আপনি কোন তিনজনের কথা বলবেন? কেন তারা অন্যদের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল?
মাহবুবঃ আমি কারো নাম বলবো না। কারণ বাকিদের তাতে অপমান করা হবে। সে অধিকার আমার নেই। ষাটের কবিদের মধ্যে আমি যাদের কবিতা পড়েছি তারা সবাই যে আমার কাছে ভালো কবি তা তো নয়। বোঝাটা আমার কবিতা বোঝার দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। যিনি মেধাবী নন ও সৃষ্টি শক্তিতে দুর্বল, তিনি একজন ভালো কবিকে চিহিৃত করবেন কিভাবে? প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্ব বোধসত্তা দিয়ে অন্যের সৃষ্টির বিচার করে। রবীন্দ্রনাথের কাছে প্রথমে নজরুলের কবিতা ‘চাঁছা-ছোলা’ মনে হয়েছিলো। তিনি ভেবেছিলেন নজরুল তলোয়ার দিয়ে দাঁড়ি কামানোর কাজ করছেন। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে যা তিনি ভেবেছিলেন, তা ছিলো তার সামাজিক ও সংস্কৃতিক আভিজাত্যের ব্যাখ্যা। তিনি জীবনানন্দ দাশের কবিতাকেও যে ভালোভাবে নিয়েছিলেন, এমন নয়। তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্তকেও মেনে নেননি প্রথমে। এ-সবের পেছনেই তার নিজস্ব চেতনা কাজ করেছে। আমি আমার চেতনা দিয়ে মাপবো ষাটের তিনজনকে। তারা আমার কাছে ভালো কবি বলে মনে হতে পারে, কিন্তু তারা আপনার কাছে বা যারা এই সাক্ষাৎকার পড়ছেন তাদের কাছে ভালো কবি হিসেবে গণ্য নাও হতে পারেন। তাই আমার ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিতে চাই না। দিলে আমার প্রিয়তম জনেরাই নাখোশ হবেন এবং ভাববেন আমি একটা গান্ডু। আমি কবিতা-বিষয়ে অজ্ঞ। আসলে কবিতা শিল্পের এমন একটি উপাদান, যার সীমানা মাপা যায় না। যারা মাপতে চান তারা খন্ডিত চেতনার অধিকারী।



প্রিয় কবি কাজী জহিরুল ইসলাম কে ভালোলাগার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো, নিভৃতচারী গুণী কবি-সাহিত্যিকদের কে, আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়, পাঠকের সামনে উপস্থাপন করার প্রবণতা। তাঁর লিখনীর বদৌলতে, ইতিমধ্যেই অনেক কবি-সাহিত্যিকদের আত্মজীবনী পড়ার সুযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকেও শ্রদ্ধেয় কবি মাহবুব হাসান এর সাক্ষাৎকারটি পড়লাম। তাঁর অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরেছি। এই চেষ্টা অব্যাহত থাকলে, হয়তো আগামীতে আরো অনেক প্রতিভাবান কবি-সাহিত্যিকদের বিষয়ে জানার সুযোগ তৈরি হবে। দুজনের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
ReplyDelete