কফি ও কবিতার স্বজন পার্থ সারথি বসু
|| এনাম রাজু ||
যার অভাব বেশি তারই ভাব বেশি, এই কথাটি কতোজনকে বলেছি সেই হিসেব কষা ভার। করোনাকালীন সময় মানুষকে ঘরবন্দী করেছে, অনেক মানুষের প্রাণ নিয়েছে। অর্থনীতিতে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়েছে। আর হবে। যদিও আশাকরি দ্রুত সব ঠিক হবে। কিন্তু কোনো অদৃশ্য ক্ষমতা ছাড়া এতো দ্রুত আমাদের ছাড়বে না। আর অনেক ভোগাবে। তবে লাভের জায়গাও বিস্তর। প্রাণ পেয়েছে প্রকৃতি, কমে গেছে বায়ু দূষণ, মানুষে মানুষে মারামারি, কাটাকাটি, হিংসা, বিদ্বেষ, রোড এক্সিডেন্ট। একটি পরিসংখ্যান বলছে, এই করোনাকালীন সময়ে দেশে কোটিপতির সংখ্যাও বেড়েছে তুলনামূলক। অনেকেই হারিয়েছে তিলতিল করে জমানো স্বপ্নসাধ। আমি পেয়েছে বিস্তর। যে পাওয়া-না পাওয়ার হিসেবটা গতোকাল অবধি লাভের পাল্লায় পূর্ণ ছিলো। কিন্তু আজ নেই। আজ বলতে এই যে রাত সোয়া দুইটা থেকে। এমনিতেই ফেইসবুকে আসি কম, বন্ধুদের, আত্মীয়-স্বজনদের এড়িয়ে চলছি বেশ কিছু দিন নানান কারণে। সে সব নাই বা বললাম, ভালো নেই এই কারণে যে হঠাৎ ফেইসবুকে দেখলাম পার্থ দা নেই। পার্থ দা বলতে যাকে বিস্তর জ্ঞানী মানুষ জানি, যিনি বহুমাত্রিক লেখক। যদিও কবি হিসেবে পরিচতি বেশি।
গতো রমজান মাসে সম্ভবত কয়েকজন মিলে ম্যাসেঞ্জারে কবিতা নিয়ে আড্ডা শুরু করেন প্রিয় কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, কবি মৌ মধুবন্তী, কবি দিলারা হাফিজ, কবি কামরুজ্জামানসহ অনেকে। সেই আড্ডায় আমাকে আমার প্রিয়ভাজন বড় ভাই ও কাব্য জগতের অভিভাবক কবি কাজী জহিরুল ইসলাম সংযুক্ত করেন। এই সংযুক্তি হলো করোনাকালীন লাভ আমার জীবনে।
গতো রমজান মাসে সম্ভবত কয়েকজন মিলে ম্যাসেঞ্জারে কবিতা নিয়ে আড্ডা শুরু করেন প্রিয় কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, কবি মৌ মধুবন্তী, কবি দিলারা হাফিজ, কবি কামরুজ্জামানসহ অনেকে। সেই আড্ডায় আমাকে আমার প্রিয়ভাজন বড় ভাই ও কাব্য জগতের অভিভাবক কবি কাজী জহিরুল ইসলাম সংযুক্ত করেন। এই সংযুক্তি হলো করোনাকালীন লাভ আমার জীবনে।
একটা সময় আমরা জুমে অনুষ্ঠানটি শুরু করি। কাজী ভাইয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে ক্রমান্বয়ে কবি আসাদ চৌধুরী, কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন, গাজী লতিফ, পার্থ সারথি বসু, সুহিতা সুলতানা,কবি সুক্লা গাঙ্গুলী, সূর্য মন্ডল, অয়ন ঘোসসহ( অনেকের নাম মনে নেই) অনেক জনপ্রিয় কবি অংশ । যেখানে পরবর্তীতে পার্থ দা নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। 'কফি ও কবিতা'র অনুষ্ঠানের প্রায় প্রতিটি পর্বে তাঁর অংশগ্রহণ আমাদের ঋদ্ধ করেছে। এই করোনাকালীন লভ্যাংশ আমার কফি ও কবিতার একজন হতে পারা। অনেক মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠা। এই অনুষ্টানের মাধ্যমেই কবি পার্থ সারথির সাথে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। তিনি মাঝে মধ্যে আমার কবিতা সম্পর্কে ফোন করে ভুল ধরে দিতেন। বলতেন এনাম তোমার কবিতার এই শব্দটা এমন হলে কেমন শোনায় দেখো তো। প্রথম প্রথম খুব লজ্জ্বা পেতাম কথা বলতে। যদিও খুব বেশি কথা হয়নি, সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগেই তিনি করোনা আক্তান্ত হন।
মাঝে কয়েকদিন কারও সাথে তেমন যোগযোগ হয়নি। ফোনেও কথা বলি না কারো সাথে। কফি ও কবিতার গ্রুপ বক্সে মাঝে মধ্যে দাদা তাঁর পরিবারের করোনা আক্তান্তের খবর জানাতো। আমি দেখতাম, কোনো কিছু বলতাম না , ভেবেছি আমি সবকিছু সামলে নিয়ে দাদাকে ফোন করবো। কিন্তু তা আর হলো না। করোনাকালীন এটাই আমার ক্ষতি যে আমার কবিতার মিথ্যে প্রশংসা না করার মতো একজনকে হারালাম। তাঁর কবিতা খুব বেশি পড়া হয়। কয়েকটি প্রবন্ধ ও কয়েকটি কবিতা পাঠ করেই বুঝেছি তিনি কতো বড় মাপের সাহিত্য বোদ্ধা ছিলেন। কবির জন্য প্রার্থনা...

Comments
Post a Comment