সার্জন
|| কাজী জহিরুল ইসলাম ||
অপারেশনের আগে দু'পেগ ভদকা,
ওটির টেবিলে তখন ঝাপসা মানুষের জীবন তীব্র-আলোর নিচে
অলিন্দ-নিলয় ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়ে বসে আছে,
কাঁপছিল ঈশ্বরের হাত।
লোকটির ছিল সুন্দরী স্ত্রী আর ষোল বছরের অটিস্টিক শিশু
যার মুখে এডোনিসের পবিত্র হাসি
এবং যা পরে মেঘ হয়ে ঢেকে দেয় সার্জনের প্রস্ফুটিত উজ্জ্বল উঠোন।
ছেলেটিকে পিতৃস্নেহ আর ছেলের সুন্দরী মাকে…
ঈশ্বরের হাত ধরেছিল সে-ও, একবার ওটির টেবিলে,
পরেরবার শোবার ঘরে, চুমু খেয়ে টেনেছিল নিজের গভীরে...
শেষমেশ ঘরেই ফেরেন তিনি, অভিজ্ঞ সার্জন।
দামী ঘড়ি, কিছু কড়কড়ে নোট, হাস্যোজ্জ্বল পুষ্প,
স্ত্রী-সন্তানের প্লেট থেকে চুরি করা কিছুটা সময়...
অনড় মৃতের ছায়া তবু সার্জনের প্রশস্ত উঠোনে।
পুত্রই প্রথম, এরপর বয়োসন্ধির লাজুক ফুল, তার প্রিয় কন্যা,
এরপর সার্জনের নিজস্ব ভেনাস...একুশ শতকে এ-কোন অসুখ,
ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে বিছানায় মিইয়ে যাচ্ছে উচ্ছ্বল জীবন!
ব্যর্থ মেডিকেল বোর্ড, চিকিৎসা বিজ্ঞান!
না, এ কিছুতেই হতে পারে না, কিছুতে নয়।
দেবশিশু হেসে বলে, সবচেয়ে উপযুক্ত ন্যায়বিচার এটিই হতে পারে
ভয় নেই, ঈশ্বর হত্যাকারী হলেও তার মৃত্যু নেই...
এইসব আধিভৌতিক জাদুবাস্তবতার জাল
ঘচাঘচ কেটে ফেলেন সার্জন
সহস্রাব্দের ধারালো ছুরি দিয়ে...
ওটির টেবিলে ধর্মঘট করা অলিন্দ-নিলয়
বারবার জেগে ওঠে নিদ্রার ভেতর
মৃত লোকটির ছায়া উঠোনের পত্রপুষ্প ছেড়ে ঢুকে পড়ে বেডরুমে
ঢেকে দেয় কুড়ি বছরের সংসার।
অপারেশনের আগে মাত্র দু'পেগ ভদকা।
হলিসউড, নিউইয়র্ক। ৮ জুলাই ২০২০।

Comments
Post a Comment