নেকড়ে
|| কাজী জহিরুল ইসলাম ||
প্রথম যেদিন গ্রামে নেকড়ে এসেছে
সেদিন আকাশে ছিল রক্তচাঁদ
চাঁদের ভেতর থেকে একদিন যে বালিকা এসেছিল নেমে,
ছড়িয়েছে রূপের আগুন সারা গ্রামে;
শুধু তাকে নিয়ে গেল দুর্ধর্ষ নেকড়ে
আর মাংসের বাগানে কিছু নোখ গোপনে রোপন করে গেল।
এখন নেকড়ে আসে প্রতিদিন
না, কোনো পাহাড় থেকে নয়, গ্রামের কোনো না কোনো
ঘর থেকে বুভুক্ষু নেকড়ে আসে রাতের আঁধারে
মানুষের মুখোষ পরে,
কেড়ে নেয় প্রাণ, বেছে বেছে...
সন্দেহ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত
লোক-শ্রুত চোখের আকাশে আলোছায়া কানামাছি খেলে
প্রতিটি পূর্ণিমা রাতে।
হলিসউড, নিউইয়র্ক। ৬ জুলাই ২০২০।

এখন নেকড়ে আসে প্রতিদিন" যথার্থই বলেছেন প্রিয় কবি।
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ প্রিয় সোহেল মাহমুদ।
Deleteশৈল্পিক গুণে সমৃদ্ধ এক কবিতা। কবিতার প্রথম ও দ্বিতীয় স্তবকে ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে খুব সম্ভবত। ১৯৭১ সালে নেকড়ের রক্তাক্ত হাতে সুন্দরকে হত্যা করা, নারীদের সম্ভ্রম লুন্ঠিত করার বিষয়টি প্রতীক এর মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। শৈল্পিক ভাষায় ইতিহাস কে উপস্থাপন করা ভীষণ কঠিন। কিন্তু এ কবি সফল হয়েছেন। কবিতার পরবর্তী অংশেএখনো মানুষের মুখোশধারী অনেক নেকড়ের হাতে প্রতিদিন নিরীহ মানুষের প্রাণ প্রদীপ নিভে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।' রক্তাক্ত চাঁদ ' শব্দবন্ধ টি এ কবিতায় চিত্রকল্প ও প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ চিত্রকল্পটি ভয় ও রক্তপাতের ইঙ্গিত বহন করছে বলে আমার ধারণা। কোন গুরুগম্ভীর বিষয়কে ধীর লয়ে বর্ণনা করার স্বার্থে কবি অক্ষর বৃত্ত ছন্দ বেছে নিয়েছেন। কবিকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ReplyDelete