Skip to main content

জাহিদ হায়দারের কবিতা

অসীম শূন্যতে তিষ্ঠ

কাজী জহিরুল ইসলাম  

 

যদি বা চমকালে হে বিদ্যুৎ

মেঘের জঙ্গলে তিষ্ট হও

যদি না উর্বশী দৃশ্যমান

মেট্রোপলিটন অন্ধকার

 

আঁধার চলে যাক অন্য নীলে,

তুমি সে-রঞ্জন প্রতিরূপের

অমিয় মুদ্রায় মল্লিকা সারাভাই নীল মঞ্চতে

 

অসীম শূন্যতে তিষ্ট হও,

যদি বা জাগালে হে বিদ্যুৎ

(তিষ্ঠ হও)

 

এই ক্ষুদ্র কবিতাটিকে আমরা দুটি প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করতে পারি। প্রথম প্রেক্ষাপটটি হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের অথবা সুনির্দিষ্ট করে ঢাকারযা তৃতীয় বিশ্বেরই উজ্জ্বল প্রতিনিধিঅধঃপতিতপ্রায় বিবেকশূন্যবৃহত্তর সমাজ ব্যবস্থার একটি চিত্র। এই অন্ধকার সমাজে বিদ্যুচ্চমকের মতো কখনো কখনো জ্বলে ওঠে ক্ষীণ আলোকরেখা। তখন কবির কল্পনায় ভেসে ওঠে এক উর্বশীযার অনুপস্থিতিতে মেট্রোপলিটন অন্ধকার। কবির প্রত্যাশা স্ফীত হয়আমাদেরওকবি বলেন, ‘আঁধার চলে যাক অন্য নীলে। আর আমাদের আকাশে তখন আনন্দভরতনাট্যমের ধ্রুপদী মুদ্রায় তখন নেচে ওঠেন পদ্মভূষণ মল্লিকা সারাভাইনীল মঞ্চেআমাদের প্রত্যাশিত আকাশে। আমরা এই কবিতাটিকে দেহজ প্রেমেও কল্পণা করতে পারি। শেষ বয়সে বিদ্যুচ্চমকের মতো মাঝরাতে জেগে ওঠা যৌবন অসীম শূন্যতে তিষ্ট হও’, হোক। বেঁচে থাক যৌবনবেঁচে থাক তারুণ্য। 



 

কবি জাহিদ হায়দার আমার বন্ধুঅগ্রজ কবি। এই কবির কবিতার সঙ্গে পরিচয় ঘটে লেখালেখির শুরু থেকেইতবে ব্যক্তিগত সখ্য গড়ে ওঠে যখন কসোভোর একটি ছোট্ট মিউনিসিপ্যালিটিভিটিনাতে দুহাজার সালের গোড়ার দিকে জাতিসংঘের নীল পতাকা হাতে আমরা দুজনই ছুটে যাই বিশ্বমানবতার ডাকে সাড়া দিতে। ডানে-বায়ে গ্রেনেড চার্জ হচ্ছেমাঝরাতে বিকট শব্দে উড়ে যাচ্ছে তিনতলা দালানকখনোবা গভীর রাতে কাচের জানালায় আগুনের লেলিহান শিখাএকদল ধর্মান্ধ মানুষের ক্রোধের আগুনে জ্বলছে ব্রোথেলের প্রেম। ভিন্ন ভূখণ্ডেদুজন অচেনা মানুষের পায়ে পায়ে যখন হাঁটে একই বিপদতখন তারা একে অন্যের আত্মীয় না হয়ে পারেন না। আমাদের নিবিড় সখ্যের অবধারিত গন্তব্য কবিতা। আমরা পরস্পর কবিতা বিনিময় করিদুজন দুজনকে শোনাই নিজেদের সদ্য লেখা কবিতার পঙক্তি।  এই কবিতা বিনিময় আমাদের আজো আছে। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে যখন ঢাকায় যাইতখনো প্রায় একটি পুরো দিনকখনো গাড়িতেকখনো বসুন্ধরার কাশবন অরণ্যে আমরা একে অন্যকে শুনিয়েছি আমাদের সদ্য লেখা কবিতা। আমাদের সেই কবিতার আড্ডায় গাড়ির চালক ছাড়া আর তৃতীয় কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তখনই তিনি আমাকে তার সর্বশেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ স্বপ্নপাড়ানি” দেন। লিখেন, “মুক্তি ভাবী ও জহিরের জন্যে ভালো থাকা ভালো। বইটি আমি যত্ন করে নিয়ে এসেছি নিউ ইয়র্কে। আজ যখন সত্তুরের কবিদের ওপর লিখবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তখন জাহিদ হায়দারের নামটিই তালিকার শীর্ষে চলে আসে। যদিও এরি মধ্যে আরও কয়েকজনের ওপর লিখেছি। 


 


কবি জাহিদ হায়দার বিরলপ্রজ এবং মেধাবী কবি। তার কবিতা নিয়ে আমি আরো দুএকজন কাব্যবোদ্ধার সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের প্রায় সকলেরই ধারণা জাহিদের কবিতা খুব ড্রাইরস আস্বাদন করা দুরূহ। জাহিদ হায়দারের কবিতা পড়তে বসলেই আমার রূপকথার সেই দৈত্যের কথা মনে পড়ে যার প্রাণভ্রমর পাতালপুরীর লোহার কৌটায় সুরক্ষিত। আড়াল” জাহিদ হায়দারের কবিতার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যা বলতে চান তা তিনি কখনোই বলেন না। রেখে দেন পাঠকের জন্য। আর তাই জাহিদ হায়দারের কবিতার রস আস্বাদন করার জন্য চাই পরিশ্রমী পাঠকযিনি রূপকথার রাজপুত্রের মতো পাতালপুরীতে গিয়ে সাতশ সাপ বধ করে উদ্ধার করবেন লোহার সিন্ধুক। সিন্ধুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা একের পর এক লোহার বাক্স খুলতে খুলতে সবশেষে যে ছোট্ট সোনার কৌটা পাবেন তা খুলে বের করে আনবেন কবিতার প্রাণভ্রমর বা মূল বক্তব্য। এতোখানি পরিশ্রম করার ইচ্ছে যার নেইসেই পাঠকের জন্য জাহিদ হায়দারের কবিতা নয়। 

 

সত্তুরের কবিতা মূলত উচ্চকিতউপমার বদলে গর্জনপ্রচ্ছন্নতার বদলে স্লোগানে মুখর। কবি জাহিদ হায়দার এই দশকেরই কবি হয়ে ঠিক তার উল্টো পথ ধরলেন। স্লোগানতো দূরে থাকসোজা কথাটিও বলেন অনেক ঘুরিয়েকয়েক স্তর উৎপ্রেক্ষার আড়ালে গুপ্তধনের মতো সযত্নে লুকিয়ে রাখেন কিছু একটা। আর সেই কিছুর খোঁজে ছুটতে ছুটতে কবিতাপ্রিয় পাঠক হারিয়ে যান প্রকৃত কাব্যসুষমার ঘোরের গভীরে। যেখানে গিয়ে কখনো কখনো পাঠকই হয়ে ওঠেন কবিআবিস্কারক। খুঁজে পান নতুন কোনো শিল্পের সন্ধানযা একেবারেই অজানাঅনাস্বাদিত। 

 

ভেসে যাইবৃষ্টিভেজা ছেঁড়া পালমাস্তুলবিহীন;

ভেসে যাইবুড়ো বইঠায় অনেক স্রোতের রেখা;

সূর্য-পোড়া দিন।

 

আঁধারের নদী। শ্যাওলায় ডুবে গেছে চোখ।

অন্ধগতির অক্লান্ত মর্মধ্বনি শুনি,

আছে জন্মআছে গ্রহণের শোক।

 

ছিল প্রিয়জনখাঁচা খোলা দিনআনন্দ অপার;

ডুবন্ত নৌকার সাথে হঠাৎ হোঁচট খাই,

রক্ত ভাসেটানে স্রোতসত্তাচলো যাই।

 (চলমান)

 

অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত এই কবিতায় তিনি বহমান সময়কে চিত্রায়িত করেছেন। জীবন সায়াহ্নে এসে একজন মানুষের উপলব্ধিঅতীতের বিহঙ্গপ্রবণ দিনএ বিশ্ব চরাচর ছেড়ে চলে যাওয়া পূর্বপুরুষদের স্মৃতির নস্টালজিয়াএরি মধ্যে নতুন জন্ম এইসবই এসেছে এই কবিতায়। তিনি যখন বলেন, ‘ভেসে যাইবুড়ো বইঠায় অনেক স্রোতের রেখা’, একজন পরিণত এবং অভিজ্ঞ মানুষের মুখ আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কেউ কেউ হয়ত বিভ্রান্ত হতে পারেন বুড়ো বইঠা’ বলার পর আবার অনেক স্রোতের রেখা’ বলার কি প্রয়োজন ছিল? ‘বুড়ো বইঠা’ আমাদের পরিণত মানুষের অবয়বটি দেয় কেবল কিন্তু অভিজ্ঞতার চিত্রটি নিশ্চিত হয় অনেক স্রোতের রেখায়ই। এইখানেই একজন দক্ষ কবির মুন্সিয়ানা। এই কবিতার আরো একটি উপমার কথা আমি উল্লেখ করতে চাই, ‘ছিল প্রিয়জনখাঁচা-খোলা দিনআনন্দ অপার। এই যে খাঁচা-খোলা দিন’ মানে অবাধস্বাধীন। আমার কাছে অসাধারণ এবং অভিনব মনে হয়েছে। আবার যখন তিনি বলেন, ‘ডুবন্ত নৌকার সাথে হোঁচট খাই’ তখন আমরা দেখতে পাই জীবন যুদ্ধে পরাজিত একদল মানুষযা আমাদের চারপাশের প্রতিদিনের চিত্র। তবুও রক্ত ভাসেটানে স্রোতসত্তা চলো যাই। আমাদের যেতেই হয়কালের বহমান স্রোত আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায় মহাকালের কোনো নতুন ঠিকানায়। এমন নগ্নভাবে দর্শন কপচানো জাহিদ হায়দারের কবিতায় বিরল। তিনি সাধারণত দর্শননীতিবাক্য বা উপদেশের ধারে কাছে দিয়েও যান না। আমরা তার কবিতায় পাই এক সুক্ষ্ণ জীবনবোধখুব ছোট ছোট ঘটনার আবহেশৈল্পিক ব্যাঞ্জনা যার বাহ্যিক অবকাঠামো নির্মাণ করে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।



 

কবিতার আঙ্গিক নিয়েও অতি সম্প্রতি তাকে খেলতে দেখি। কখনো মাত্রাবৃত্ত আবার কখনো টানা গদ্যসচরাচর প্রমিত বাংলাকখনো-সখনো আঞ্চলিক ভাষায় তুমুল বেজে ওঠে তার কবিতা।

 

জাইনা রাখবেনসব মানষের একটা না একটা কাম থাকেকাম ছাড়া মানুষ তো থাকবার পারে নাআমার পরফেশন হইলো অফরাদ করা। অফরাদ করিআয় করিবাইচা থাকিকে অফরাদ করে নাখবরের কাগজ দেখেন নামন্ত্রী মিনিষ্টার আলবালসাল সব শালা এক একটা অফরাদের জাহাজআমি অগো কাছে পিঁপড়া।

 

একজন চিহ্নিত অপরাধী কাইলা কামালের প্রসঙ্গে কবি বলেন,

 

আষাঢ়ের ঘোর লাগা বৃষ্টির সন্ধ্যায় আমরা ছিলাম প্রায় রাত্রী হয়ে। আমি জানিভবিষ্যতের কোনো বেলায় আমাদের আরো দেখা হবে। বেশীরভাগ সময়কামালের লাল দাঁতের ফাঁকে টুথপিক দেখা যায়। ঠোঁটের উত্তরে দক্ষিণে ও নাড়াচাড়া করতে পারে। আমি কখনো পারি না।

 

এরপরই অপরাধের সপক্ষে কামালের এমন সংলাপ শুনে আমরা বিস্মিত হই।

 

আমার কথাটা আফনের বিশ্বাস হইলো না। একজন পাপ ছাড়া মানুষ যদি আমারে দেহাইতে পারেন তাইলে আজকা আফনারে গার্লস কলেজের একটা ফ্রেশ মাল খাওয়ামু।

 

কবি তখন অন্ধকারে স্বস্তি খোঁজেন।

 

অনেকদিন পর ভালো লাগছে বৃষ্টি। রাস্তায় বিদ্যুৎ নেইভালো অন্ধকারে আমরা কিছুটা অন্ধকার। বাস আসছে না। দাঁড়ায়ে আছি অনেক অপেক্ষার ভেতর

 

আমরাও অপেক্ষার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকি। অন্ধকারের ভেতরে নিজেদের অন্ধকারগুলি মেলে ধরি। খরাক্রান্তজড়াক্রান্ত পৃথিবীতে তুমুল বৃষ্টিপাতের প্রতীক্ষা করি। কাইলা কামাল তখনো অপরাধের সপক্ষে তার যুক্তিগুলো তুলে ধরে।

 

অফরাদ না করলি কুনো মানুষ নিজেরে চিনবার পারে নাপশুরা কিন্তুক কোনো পাপ করে নাবিশ্বাস করলেন নালেখাপড়া করা মানুষ নিয়া ঝামেলাহেরা বই পড়েমানুষের লগেতো মেশে নাদুনিয়াও বোঝে না। শেফালী আমারে খুব ভালো বোঝেলাভ ম্যারেজ ছিল। আমগো ভালোবাসার মদ্দি কুনো শালা বড়শি ফেলবার পারে নাই।

(জীবন-২)

 

এটি কবি জাহিদ হায়দারের স্বভাববিরুদ্ধ কবিতা। যদিও আপাত দৃষ্টিতে একটি সহজ সরল বয়ান মনে হচ্ছেশৈল্পিক কারুকাজতো আছেইকবিতার পেছনে লুকানো কিছুও আছে। যখন তিনি বলেন ভালো অন্ধকারে আমরা কিছুটা অন্ধকার’ তখন কি আমাদের কাব্যান্বেষণের কয়েকটি জানালা খুলে যায় নাআমরা কি সেই অন্ধকারের ভেতর অতি যত্নে আড়াল করা একটি ছোট্ট প্রদীপ দেখতে পাই না?

 

স্বরবৃত্ত এবং মাত্রাবৃত্ত কবি জাহিদ হায়দারের প্রিয় ছন্দ তা আমি জেনেছি আমাদের সাক্ষাতের আলাপচারিতায়যদিও আমি তার রচিত স্বর/মাত্রাবৃত্ত ছন্দের কবিতা তেমন পড়িনি। স্বরবৃত্ত ছন্দে  রচিত বন্দী” কবিতাটি পড়ে আমি মুগ্ধ হয়েছিসেই সাথে কাজী নজরুল ইসলামের কারার ওই লৌহ কপাট/ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট” ধ্বনি-তরঙ্গে কিছুক্ষণের জন্যে হলেও আচ্ছন্ন থেকেছি। এই কবিতার কিছু পঙক্তিতে নজরুলের কারার ওই লৌহ কপাটের মতো ৩/৪, ৩/৪ মাত্রার স্বরবৃত্ত ছন্দের চাল রয়েছে।  

 

তুমি কি রাত্রি পোষো?

তারাদের খাচার ভেতর জাগরণ-অর্থ লেখ?

 

জানলার লোহায় পড়া শিশিরের বিন্দু-পাড়া

ছোটো ছোটো চাঁদের বাড়িদুচোখ হাতড়ে বেড়ায়

জ্যোৎস্নার হৃদি-প্রভাদিবসের মরচে বাড়ি রাত্রির ঘনরূপা।

 

রে পড়া তারার ব্যাথায় তুমি কি আকাশ হারা?

জ্বলা-নেভা পরিক্রমা মোম-তলে রাখছে জমা

কয়েদীর দেয়াল-কথা।

 

কোন সে অবাধ ডাকেমানসের ঘূর্ণিপাকে

যেখানে চাঁদের রেখা যায় না অন্য পাড়ায়;

সাড়া নেই মোমের রোদেভোর যায় পাখির ডানায়।

 

তুমি কি নয়ন পোষোফেলে আসো দৃষ্টি জোড়া

ধুলোতে বৃষ্টি-ঝড়েকোন এক পথের মোড়ে।

চার পথে প্রশ্ন-ফণাচার পথ জবাব মোছে,         

খোঁজে চোখ কদম ফোটাকাদে দিন অন্বেষণে।

 

যাপনের শৃঙ্খলে তার পেতে চায় তীরের কিরণ

উজানে যাই চলো যাই তরণীর পরম্পরায়

পারাপার পোষে তোমায় ক্ষয় আর শ্বাসের দেনা।

 

যতসব বিদায় লেখা হারানো মেঘের চোখে,

হারানো সকল নদী বালিতে তোমায় পোষে।

 

তুমি কি মানুষ পোষোতুমি কি বানাও খাঁচা?

যেখানে সকল বাঁচা জাগে আর স্বপ্ন দ্যাখে,

ও-পোষা আঁকছে মেঘে হারানো বৃষ্টি-রেখা।

 

তুমি কোন ভূবন পোষো?

 

অন্তমিল না থাকায় কবিতাটি যে স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত তা ধরতে পাঠকের সময় লাগতে পারেকেউ কেউ বিভ্রান্তও হতে পারেন। ছন্দের ঝংকারের কারণে কবিতাটি সহজ এবং সুখপাঠ্য হলেও বিষয়বস্তু বা কবিতার অন্তর্নিহিত বক্তব্যটি কিন্তু যথেষ্ঠই দুর্বোধ্য এবং দুর্ভেদ্য।  কবি এই কবিতায় একজন কয়েদীকে দেখছেন আর তাকে নানান রকম প্রশ্ন করছেন। এইসব প্রশ্নের মধ্য দিয়ে একজন বন্দি মানুষের ভেতরে যে অবাধ-স্বাধীন আরো একজন মানুষ বাস করে অথবা এই বন্দিত্বের ভেতরেই যে তিনি নির্মাণ করে নেন অন্য এক মুক্ত-ভুবন সেইসবই ব্যক্ত হয়েছে কবিতাটিতে।

 

(বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম এ প্রকাশিত)

Comments

  1. কবি জাহিদ হায়দার কে নিয়ে অসাধারণ এই লেখা টি পড়ে খুবই ভালো লেগেছে।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

অসাধারণ এই শিল্পীর জীবনের গল্প বড় করুণ

  [এই সময়ের অত্যন্ত প্রতিভাবান শিল্পী সারফুদ্দিন আহমেদ। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে। আর্ট কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন ,  আর শুধু ছবি আঁকেন। নানান মাধ্যমে ,  নানান বিষয়ের ছবি। সারফুদ্দিন আহমেদের ছবি থেকে চোখ ফেরানো যায় না ,  আপনাতেই ওঁর নান্দনিক সৃষ্টিকর্মে দৃষ্টি আটকে যায় ,  কী জল রঙ ,  কী অ্যাক্রিলিক ,  কিংবা স্রেফ পেন্সিলের ড্রয়িং। এই গুণী শিল্পীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো।]       ভারত আমাকে চোখ দিয়েছে ,  বাংলাদেশ দিয়েছে দৃষ্টি -     সারফুদ্দিন আহমেদ     কাজী জহিরুল ইসলামঃ  ব্যাক গ্রাউন্ডে তবলা বাজছে আপনি ছবি আঁকছেন কাচের ওপর।    এই যে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ছবি আঁকা, এই ছন্দটা ছবিতে কিভাবে ধরেন? আর কোনো শিল্পী ছবি  আঁ কার সময় যন্ত্রানুসঙ্গ ব্যবহার করেছেন?   সারফুদ্দিন আহমেদঃ   কাঁচ নয়,   এটি এক বিশেষ ধরনের কাপড়-নেট। এই নেটের উপরে বর্তমানে আমার এক্সপেরিমেন্ট চলছে।    জহিরুলঃ ও ,  ফেইসবুকে যখন ছবিটি দেখি কাচের মতো ...

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর সাক্ষাৎকার || অষ্টম পর্ব ||

[লেখক, সাংবাদিক, অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর সাক্ষাৎকারের অষ্টম  পর্ব আজ প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম।]          দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ বাসস - কে অকার্যকর করেছে  – মঞ্জু    জহিরুলঃ  আপনি ফেলোশিপ নিয়ে দিল্লীতে ছয়মাস ছিলেন, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং পেশাগত অভ্যাসের কারণে কাছে থেকে দেখার/বোঝার চেষ্টা করেছেন ভারতের এবং উপমহাদেশের রাজনীতি। আমরা দেখি ভারতের রাজনীতিতে গায়ক, নায়ক, লেখক, সাংবাদিকের আবির্ভাব ঘটে সব সময়ই এবং তারা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখেন। বাংলাদেশে এই ধারা খুব সম্প্রতি শুরু হলেও আমাদের জনপ্রিয় খেলোয়াড়, শিল্পীরা নিজেদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করা ছাড়া রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। এমন কি ধর্ষণ, অন্যদেশকে ট্রানজিট প্রদান, উপর্যুপরি সড়ক দূর্ঘটনা, পরিবেশ ধ্বংসকারী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি ইস্যুতেও তারা নীরব। অথচ তাদের জনপ্রিয়তা এবং রাজনীতি সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত, যা ভারতে দেখা যায়। বিষয়টি যদি আপনার মতো করে ব্যাখ্যা করেন।  মঞ্জুঃ   দিল্লিতে আমার অবস্থানকালকে আমি নানা দিক থ...

কানের কাছে নারী কন্ঠ

  স্বপ্নের ঐশ্বর্য   || কাজী জহিরুল ইসলাম ||   ছুটির দিন। লম্বা সময় ধরে ঘুমাবো। কিন্তু তার আর উপায় নেই। কানের কাছে নারী কন্ঠ। বেশ আত্মবিশ্বাসী কন্ঠ। ক্রমাগ ত  কথা বলে যাচ্ছেন এক অপরিচিতা। আমি লাফ দিয়ে উঠি। কে তিনি ?  আমার স্ত্রী বলেন ,  রুবানা হক ,  শোনো কী বলছেন। রুবানা হক প্রয়াত ব্যবসায়ী আনিসুল হকের স্ত্রী। আমাদের কৈশোর-উত্তীর্ণ কালে আনিসুল হক ছিলেন আমাদের হিরো। টিভি উপস্থাপনায় অন্য এক আধুনিকতা নিয়ে হাজির হন তিনি। এরপর আমরা ধীরে ধীরে তার ব্যবসায়ীক সাফল্য ,  সাংগঠনিক সাফল্য দেখতে দেখতে বড় হই। খুব সাম্প্রতিককালে ,  আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ,  কেউ একজন বলেছিলেন ,  তার স্ত্রী রুবানা হকও খুব ভালো কথা বলেন। কিন্তু রুবানা হকের কথা শোনার সৌভাগ্য আমার হয়নি। দুই যুগ ধরে দেশের বাইরে থাকার কারণে এই সময়ে স্টার হয়ে ওঠা অনেকের সম্পর্কেই আমার ভালো ধারণা নেই।  তার কথায় এমন কিছু ছিল যে আমার পক্ষে ঘুমিয়ে থাকা সম্ভব হয়নি। আমি মুক্তিকে বলি ,  প্রথম থেকে দাও ,  পুরো বক্তৃতাটা আমি শুনতে চাই। আমি পরপর দুইবার তার পুরো বক্তব্যটা শুনি ,  ফ...